‘ইত্যাদি’ এবার চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ বার
‘ইত্যাদি’ এবার চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরল

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অন্যতম প্রিয় বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবার চুয়াডাঙ্গার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে পর্ব ধারণ করেছে। নির্মাতা হানিফ সংকেত এবং তার টিমের নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি চুয়াডাঙ্গার নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুটিং করা হয়, যা ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এবং প্রায় শতাধিক বছরের প্রাচীন হাজারদুয়ারি নামে পরিচিত। অনুষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল দর্শকদের কাছে চুয়াডাঙ্গার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও জনজীবনের নানা দিক তুলে ধরা।

শুটিং-এর শুরুতে স্থানীয় ঐতিহ্য ও কৃষ্টি কেন্দ্র করে একটি পরিচিতিমূলক গান এবং নৃত্য পরিবেশন করা হয়। গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত নিজেই, এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। কোরিওগ্রাফি করেছেন এসকে জাহিদ। রাজিব এবং তানজিনা রুমার কণ্ঠে গানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, যেখানে চুয়াডাঙ্গার নিজস্ব সাংস্কৃতিক রঙ এবং ঐতিহ্যের স্পর্শ পাওয়া গেছে।

শুটিং-এর অংশ হিসেবে ‘ইত্যাদি’-র টিম স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে। চুয়াডাঙ্গার সন্তান, জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী বিউটি এবং ইত্যাদির আবিষ্কার প্যান্থ কানাই বিশেষ পরিবেশনা করেছেন দুটি গান মাধ্যমে। গানের কথা লিখেছেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। অনুষ্ঠানটি চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে দর্শককে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

শুটিং উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে। অনুষ্ঠানস্থল কেন্দ্র করে একটি জমজমাট মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় দোকানিরা নানা পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করেছেন। দর্শকরা সকাল থেকে এসে অনুষ্ঠানের স্থল কেন্দ্রকে প্রাণবন্ত করেছেন। জেলা প্রশাসনও উপস্থিত ছিলেন এবং বিশেষ অতিথিদের আমন্ত্রণ জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল দর্শকবহুল হয়ে ওঠে এবং পুরো পরিবেশে উৎসবমুখর উচ্ছ্বাস বিরাজ করে।

‘ইত্যাদি’-র এই পর্বে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের তালিকায় ছিলেন সোলায়মান খোকা, সুভাশিষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, মুকিত জাকারিয়া, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুর্বণা মজুমদার, হানিফ পালোয়ান, বেলাল আহমেদ মুরাদ, জাহিদ চৌধুরী, সাবরিনা নিসা, নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে। তাদের পারফরম্যান্স অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেছে এবং দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

নির্মাতা হানিফ সংকেত বলেন, “চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ‘ইত্যাদি’ দর্শককে শুধুমাত্র বিনোদন দেয় না, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুটিং-এ অংশ নেওয়া স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা আনন্দদায়ক ছিল এবং তাদের প্রতিভা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পেলাম।”

দর্শকরা শুটিং-এর সমাপ্তি পরপর অনুষ্ঠানটির ধারাবাহিক সম্প্রচারের জন্য উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি আগামী শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় বাংলা সংবাদের পর বিটিভিতে সম্প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠানটি কেবল বিনোদনই দেবে না, দর্শকদের কাছে চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয় তুলে ধরার কাজও করবে।

বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, ‘ইত্যাদি’ এই ধরনের শুটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলের ইতিহাস, লোকসংগীত, নৃত্য, শৈল্পিক অভিব্যক্তি এবং স্থানীয় মানুষের জীবনধারাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরছে। এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও জনপ্রিয়ীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষও অনুষ্ঠানটির শুটিংতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। তারা নিজেদের গ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং নৃত্যকে বিনোদনমূলক আঙ্গিকে সম্প্রচারিত হতে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে মেলবন্ধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুধু টিভি দর্শক নয়, সরাসরি অংশগ্রহণকারীদেরও মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।

উপসংহারে বলা যায়, ‘ইত্যাদি’-র এই পর্ব চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রাচীন জনপদের নান্দনিক স্থাপনা, স্থানীয় শিল্পীর পরিবেশনা, জনজীবনের স্বতন্ত্র রঙ এবং দর্শকদের উৎসাহ—all মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চিত্র ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানটি কেবল বিনোদন নয়, দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পর্বের মাধ্যমে ‘ইত্যাদি’ প্রমাণ করেছে যে, এটি কেবল একটি টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পরিচয় করানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম। চুয়াডাঙ্গার মতো অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তৈরি এ পর্ব দর্শক এবং শিল্পীদের মধ্যে এক নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিস্তৃত মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত