বড়দিনে টালিউডে একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে তিন সিনেমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
বড়দিনে টালিউডে মুক্তি পাচ্ছে তিন সিনেমা

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যিশু খ্রিস্টের জন্মদিনের উৎসবের মধ্যে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহগুলো এবার বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। বড়দিন উপলক্ষ্যে টালিউডে একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, যা দর্শক এবং সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে এক আনন্দময় আবহ তৈরি করেছে। বছরের শেষের দিকে এ ধরনের একযোগে সিনেমা মুক্তি একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে, যা শুধু বিনোদনই নয়, সংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বড়দিনে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো ‘মিতিন মাসি: একটি খুনির সন্ধানে’। এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রহস্য এবং অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী এ সিনেমার পরিচালক অরিন্দম শীল। এটি মিতিন মাসি ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে। গল্পে রহস্যময় খুনের তদন্ত এবং চরিত্রের জটিলতা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে প্রস্তুত। সিনেমার ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং থ্রিলার এলিমেন্টের সমন্বয় দর্শকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছে।

দ্বিতীয় সিনেমা হলো ‘প্রজাপতি ২’। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন টালিউডের সুপরিচিত অভিনেতা দেব এবং অভিনেত্রী ইধিকা পাল। সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হলো মিঠুন চক্রবর্তীর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে উপস্থিতি, যা দর্শকদের জন্য বিশেষ একটি টান তৈরি করেছে। অভিজিৎ সেন পরিচালিত এই সিনেমাটি মূলত একটি পরিবারকেন্দ্রিক গল্প, যেখানে পারিবারিক মূল্যবোধ, সম্পর্ক এবং জীবনের বিভিন্ন ধাপের গল্প উঠে এসেছে। সিনেমার গল্প এবং আবহ নির্দিষ্টভাবে দর্শকদের আবেগকে ছুঁয়ে যাচ্ছে, যা পরিবারসহকারে প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখার আনন্দ বাড়াচ্ছে।

তৃতীয় এবং বিশেষ উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’। এটি সনাতন ধর্মের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন অবলম্বনে নির্মিত। সিনেমায় তিনটি সময়কাল তুলে ধরা হয়েছে—শ্রীচৈতন্যদেবের সময়, ঊনবিংশ শতক এবং বর্তমান সময়। প্রধান চরিত্রে শুভশ্রী গাঙ্গুলি বিনোদিনীর চরিত্রে, যীশু সেনগুপ্ত নিত্যানন্দ প্রভুর চরিত্রে এবং দিব্যজ্যোতি দত্ত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি গল্পের ভিজ্যুয়াল এবং ঐতিহাসিক পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। সিনেমার মাধ্যমে দর্শকরা ধর্মীয় ইতিহাস, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

এই তিনটি সিনেমার মুক্তি শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বড়দিনের প্রেক্ষাপটে দর্শক সমাজকে একত্রিত করছে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকরা পরিবারের সঙ্গে বসে সিনেমা দেখার মাধ্যমে বড়দিন উদযাপন করছেন। এছাড়া টালিউডের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর গল্প এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ এই উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শেষের দিকে একসঙ্গে তিনটি বড় সিনেমার মুক্তি টালিউডের শিল্পী, পরিচালক এবং প্রযোজকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের মেলবন্ধন। সিনেমাগুলোর গল্প, অভিনয় ও প্রযুক্তিগত মান দর্শকদের বিনোদন এবং শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সিনেমাগুলোর ভিজ্যুয়াল, গল্প এবং অভিনয়ের প্রশংসা করা হচ্ছে।

বড়দিনে টালিউডের এই উৎসব শুধুমাত্র সিনেমাপ্রেমীদের জন্য আনন্দ নয়, বরং এটি শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশেও ভূমিকা রাখছে। এই ধরনের মুক্তি দর্শকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করছে এবং আগামী বছরেও একই ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ আশা করা যাচ্ছে। টালিউডের এই তিন সিনেমা কেবল বড়দিনের আনন্দকে দ্বিগুণ করছে না, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং দর্শকপ্রেমের একটি শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত