প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন—এমন ঘোষণার পর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বাড়তি উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের কিছু এলাকায় সম্ভাব্য জনসমাগম ও যানজটের আশঙ্কায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা এক নোটিশে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। নোটিশটি সোমবার সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। দীর্ঘদিন পর তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে যান চলাচল, শ্রমিকদের যাতায়াত এবং আমদানি-রপ্তানির পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজিএমইএর নোটিশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরা (পূর্ব ও পশ্চিম), উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, আব্দুল্লাহপুর, তুরাগ, টঙ্গী, পুবাইল, রূপগঞ্জ, কাঞ্চন ব্রিজ এবং আশুলিয়া এলাকার পূর্বাংশে অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে। এসব এলাকা বিমানবন্দরসংলগ্ন হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি যানজট ও জনসমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, এসব এলাকার কারখানাগুলোয় কর্মরত শ্রমিকদের যাতায়াত এবং কাঁচামাল ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন ও সময়মতো চালান পাঠানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সে কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানা কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। প্রয়োজনে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে আগে বা পরে অন্য কোনো একদিন দায়িত্ব পালন করিয়ে বৃহস্পতিবার ছুটি দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া নোটিশে জরুরি আমদানি-রপ্তানিকাজে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যান চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প সড়ক বা অন্য পথ ব্যবহার করার জন্য কারখানা মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এতে করে পণ্য পরিবহনে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ও আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বড় জনসমাগমের কারণে যদি কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু মালিকদের ওপর নয়, শ্রমিকদের আয় ও দেশের রপ্তানি আয়েও পড়ে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু বিএনপির রাজনীতিতেই নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানের পর তাঁর দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সমর্থকেরা তাঁকে বরণ করে নিতে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের জমায়েত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, শ্রমিকদের একটি অংশ মনে করছেন, একদিনের ছুটি তাঁদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, বিশেষ করে যদি যানজট ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আবার অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, অতিরিক্ত ছুটির কারণে মাসিক আয় বা ওভারটাইমের সুযোগ কমে যেতে পারে। এ কারণে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কারখানা মালিকদের মধ্যেও এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় একদিন কারখানা বন্ধ রাখা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত, কারণ এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি কমবে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে উৎপাদন পরিকল্পনায় সমস্যা হতে পারে।