প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশের সংগীতপ্রেমীদের জন্য আনন্দের সংবাদ হলো প্রখ্যাত শিল্পী মুনাইম বিল্লাহ দীর্ঘ বিরতির পর ফের দর্শক-শ্রোতাদের কণ্ঠে উপস্থিত হয়েছেন নতুন গান ‘কোটি হাদির ডাক’-এর মাধ্যমে। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতি ও বিপ্লবী চেতনা এই গানের মূল উপজীব্য। গানটি সোমবার, ২২ ডিসেম্বর সকালেই শিল্পীর নিজস্ব অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয় এবং মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মুনাইম বিল্লাহ জানান, দীর্ঘ বিরতির পর ‘কোটি হাদির ডাক’ দিয়েই সংগীতে পুনরায় ফিরেছেন। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি গান নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি বিপ্লব। শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের বিপ্লবী চেতনার স্বীকৃতি জানাতে এই গান তৈরি করেছি। আমাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে একাত্মতা জানানো এবং বিপ্লবী চেতনার মানুষ ছাড়াও সাধারণ জনমনে দারুণ প্রভাব ফেলতেই এটি লেখা। এই গান হাদি ভাইকে চিরঅমর করে রাখবে।”
গানটির কথা লিখেছেন প্রখ্যাত কবি জিয়া হক। সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন আলোচিত শিল্পী আবু উবায়দা। শ্বাসরুদ্ধকর সাউন্ড এবং মিক্স মাস্টারিং করেছেন শরিফ মাহমুদ। শিল্পী ও নির্মাতা দল এই গানটিকে অন্যরকম ও মনোগ্রাহী করার জন্য বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।
কবি জিয়া হক বলেন, “‘কোটি হাদির ডাক’ গতানুগতিক ধারার বাইরে একটি সংগীত, যেখানে কথা, সুর ও কণ্ঠ একত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। আমার বিশ্বাস, ‘হাদি তুই ফিরে আয়’ গানটি যে সাড়া ফেলেছে, ‘কোটি হাদির ডাক’ও বিপ্লবী সংগীত হিসেবে শ্রোতাদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে।” উল্লেখ্য, জিয়া হকের লেখা ‘হাদি তুই ফিরে আয়’ গানটি মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে দুই মিলিয়নেরও বেশি ভিউ অর্জন করেছিল।
সংগীত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘কোটি হাদির ডাক’ শুধু একটি গান নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শহীদ ওসমান হাদির চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও বিপ্লবী চেতনার মূল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে গানটি। গানটি নির্ভুলভাবে বিপ্লবী চেতনার অনুভূতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তুলে ধরেছে।
প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে গানটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গানটির সুর, শব্দ প্রক্রিয়াকরণ এবং মুনাইম বিল্লাহ’র কণ্ঠের স্বকীয়তা এটিকে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম করবে। শিল্পী নিজেও বলেছেন, গানটি তৈরি করার সময় তিনি শহীদ হাদির স্মৃতিচারণ এবং বিপ্লবী বার্তাকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা অনুভব করেছেন।
গানটি ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণে দর্শক-শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই গানকে দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে। মুনাইম বিল্লাহর কণ্ঠ এবং আবু উবায়দা’র সুরের সংমিশ্রণ গানটিকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে। সংগীত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ধরনের বিপ্লবী সংগীত দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে।
‘কোটি হাদির ডাক’ গানটি শুধু স্মৃতি নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে ঐতিহাসিকভাবে চিন্তাশীল এবং সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করছে। মুনাইম বিল্লাহ জানান, তিনি চাইছেন এই গান শুধু শ্রোতাদের কানের আনন্দ নয়, বরং তাদের মনে বিপ্লবী চেতনা ও দায়িত্ববোধের বার্তা পৌঁছে দিক। তিনি আশা করছেন, গানটি দেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শহীদ হাদির মূল্যায়ন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে।
সংগীতটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন মিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সমালোচকরা গানটির প্রশংসা করেছেন। গানটি শুধু একটি সংগীত প্রকাশ নয়, এটি ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তির পরপরই গানটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হচ্ছে, এবং দর্শক-শ্রোতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসছে।
এই নতুন বিপ্লবী সংগীতের মাধ্যমে মুনাইম বিল্লাহ প্রমাণ করেছেন, দীর্ঘ বিরতির পরও তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিতে সক্ষম। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতি ও চেতনা আধুনিক সংগীতে রূপান্তরিত হয়ে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।