ভারতে পাচারকালে ধরা পড়ল লক্ষাধিক টাকার বাংলাদেশি নোট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
২ টাকা

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দেশটির কাস্টমস বিভাগ এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশি নোট উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলো ছিল ২ টাকা মূল্যমানের ৬০ হাজারটি নতুন ও অব্যবহৃত নোট। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ থানার আওতাধীন ঠাকুরবাড়ি এলাকায় সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের থামার সংকেত দেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই যুবক দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের ধাওয়া করেন।

ধাওয়ার একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা রাস্তার ওপর কয়েকটি বান্ডিল ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা ফেলে যাওয়া বান্ডিলগুলো উদ্ধার করেন। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরে রয়েছে ২ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশি নোট, মোট সংখ্যা ৬০ হাজার। অর্থমূল্যে যা দাঁড়ায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া নোটগুলো একেবারেই নতুন, অব্যবহৃত এবং ধারাবাহিক সিরিজের হওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এই মুদ্রাগুলো সীমান্তপথে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। যদিও পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি একটি সংগঠিত চক্রের কাজ হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলো কোথা থেকে এসেছে, কী উদ্দেশ্যে ভারতে আনা হচ্ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস বিভাগ।

উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেনের জন্য সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্বর্ণ, মাদক, জাল নোট ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি মুদ্রা ভারতে পাচারের ঘটনাও মাঝে মধ্যে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আর্থিক লেনদেনের একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যা সুযোগ পেলেই এই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া নোটগুলো নতুন ও অব্যবহৃত হওয়ায় সেগুলোর উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত ব্যবহৃত নোট নয়, বরং একেবারে নতুন নোট পাচারের চেষ্টা হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ভারতীয় তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এগুলো হয়তো কোনো বড় চালানের অংশ ছিল এবং একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পালিয়ে যাওয়া দুই যুবক সম্ভবত শুধু বাহক বা কুরিয়ার হিসেবেই কাজ করছিল, এমন ধারণাও করা হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই উত্তর দিনাজপুর জেলা কাস্টমস ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত দিয়ে কোনো সন্দেহজনক যাতায়াত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বাংলাদেশি মুদ্রা ভারতে উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি দুই দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বৈধ পথে মুদ্রা বিনিময় ছাড়া কোনো দেশের মুদ্রা অন্য দেশে পাচার হওয়া অর্থনৈতিক অপরাধের শামিল। এতে শুধু রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনই হয় না, বরং অপরাধী চক্র অর্থপাচার, জাল নোটের কারবার কিংবা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ পায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস বিভাগ। উদ্ধার হওয়া নোটগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে, যাতে এগুলোর প্রিন্টিং, সিরিজ নম্বর এবং অন্যান্য কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সীমান্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের জন্যই সতর্কবার্তা। সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে এ ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।

সব মিলিয়ে, উত্তর দিনাজপুরে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বাংলাদেশি নোট উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে নয়, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গভীর সমস্যার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত