তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে শোবিজে আনন্দ ও ভাবনার ঢেউ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে শোবিজে আনন্দ ও ভাবনার ঢেউ

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রায় সতেরো বছর পর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর রাজধানীর পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে স্থাপিত গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে প্রথমবারের মতো দেওয়া তাঁর ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি এর প্রতিধ্বনি শোনা গেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। বিএনপিপন্থি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি অভিনয়, সংগীত ও সংস্কৃতিজগতের অনেক পরিচিত মুখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যে আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের পোস্টে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত অনুভূতি, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সমালোচনার অধিকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্নের কথা। এসব প্রতিক্রিয়া একদিকে যেমন উচ্ছ্বাসের প্রকাশ, অন্যদিকে তেমনি সচেতন নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা ও প্রশ্নেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন তাঁর ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি লেখেন, দেশ বহু বছর ধরে শোক, অবিচার ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা তাঁর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বাঁধনের বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি তারেক রহমানের আচরণ, কথা বলার ধরন ও উপস্থিতির ভেতরে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব দেখেছেন, সেটিকেই সামনে এনেছেন।

বাঁধন উল্লেখ করেন, গণসংবর্ধনায় তারেক রহমানের স্ত্রী ও কন্যার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, আনুষ্ঠানিক উচ্চ আসনে না বসে সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা এবং এমনকি পরিবারের পোষা প্রাণীর প্রতিও যে স্নেহ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো তাঁকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁর মতে, রাজনীতিতে ছোট ছোট আচরণ অনেক সময় বড় বার্তা বহন করে। বাঁধনের ভাষায়, দেশ এমন নেতৃত্বের যোগ্য, যারা শাসন নয়, বরং সেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে, যেখানে অনেকেই তাঁর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করেন, আবার কেউ কেউ তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অভিনেতা খায়রুল বাসার তাঁর পোস্টে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে আশাবাদের ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি লেখেন, এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি ফিরে আসুক—এমন কামনা তাঁর। তাঁর লেখায় ছিল কাব্যিক আবেগ ও একই সঙ্গে সতর্ক প্রত্যাশা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে মানুষের হাতে যদি দেশের দায়িত্ব আসে, তবে ভালো কাজের প্রশংসা যেমন করবেন, তেমনি অসংগতি ও ভুলের কঠোর সমালোচনাও করবেন। এই অবস্থান অনেকের কাছে একজন সচেতন নাগরিকের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানান, আলোচনা ও সমালোচনা একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য। তাঁর মতে, নীরবতা কখনো দেশ গড়ে না। একই সঙ্গে তিনি তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁকে ফিরে পেয়ে তিনি খুশি। চমকের এই বক্তব্যে একদিকে যেমন স্বাগত ও আনন্দের অনুভূতি রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি সমালোচনার অধিকার সংরক্ষণের কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

ছোটপর্দার অভিনেতা সাঈদ জামান শাওন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে একটি খোলা চিঠি লেখেন, যা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। চিঠিতে তিনি চাটুকারদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং অভিজাত শ্রেণির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেন। শাওনের মতে, ফাঁকা প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মাধ্যমে কথা বলাই নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি দলীয় শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দলের ভেতরে যারা বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

শাওনের চিঠিতে তরুণ সমাজের মানসিকতার কথাও উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রজন্ম কোনো নির্দিষ্ট নেতা, দল বা প্রতীকের প্রতি অন্ধভাবে অনুগত নয়। তারা সঠিক কাজের পাশে থাকবে, আবার ভুল হলে প্রশ্ন তুলবে। এই বক্তব্য অনেক তরুণের অনুভূতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চিঠির শেষাংশে তিনি তারেক রহমানকে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর স্থপতি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁকে দেশে স্বাগত জানান।

সংগীতাঙ্গন থেকেও এসেছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও লেখক লুৎফর হাসান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, পুরো বক্তব্যে ব্যক্তিগত বা বংশগত গৌরবের প্রকাশ নেই, নেই প্রতিপক্ষের প্রতি তীব্র ঘৃণা। বরং আছে দেশ গড়ার আহ্বান এবং শহীদ হাদি ও অন্য শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ। তাঁর মতে, এই বক্তব্য একটি ইতিবাচক স্বপ্নের ইঙ্গিত দেয় এবং স্পষ্ট করে বলে দেয়, দেশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়—দেশ জনগণের।

তবে সব প্রতিক্রিয়াই যে প্রশংসামূলক ছিল, তা নয়। স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান আবু হেনা রনি ভিন্ন আঙ্গিকে মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেন। তারেক রহমানের গণসংবর্ধনায় বিপুল জনসমাগমকে তিনি রসিকতার ছলে গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন, যেদিন গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। রনির এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। কেউ এটিকে সময়োপযোগী রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ বলেন, এই রসিকতায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি তীক্ষ্ণ প্রতিফলন রয়েছে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। শোবিজ তারকাদের প্রতিক্রিয়ায় যেমন উচ্ছ্বাস, আশাবাদ ও স্বাগতবার্তা রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রশ্ন, সতর্কতা ও নাগরিক দায়িত্বের কথা। এই বহুমাত্রিক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, তারেক রহমানের ফিরে আসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যার প্রভাব রাজপথ থেকে শুরু করে সংস্কৃতির মঞ্চ পর্যন্ত বিস্তৃত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত