প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের আলোছায়ার এক কিংবদন্তি, থালাপতি বিজয়, আনুষ্ঠানিকভাবে তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। মাত্র ৫১ বছর বয়সে লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন শব্দের জগৎকে বিদায় জানিয়ে তিনি এবার রাজনীতির দিকে মনোনিবেশ করতে চলেছেন। ৩৩ বছরের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য দর্শকের মন জয় করা এই তারকা, এক সময়ের শিশুশিল্পী থেকে তামিল চলচ্চিত্রের সুপরিচিত নায়ক হয়ে ওঠেন।
বিজয় ১০ বছর বয়সে তামিল চলচ্চিত্র ‘ভেত্রি’-তে শিশুশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ১৮ বছর বয়সে ‘নালাইয়া থেরপু’ ছবিতে নায়ক হিসেবে তার অভিনয় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ৩৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু সফল নয়, সমালোচনারও মুখোমুখি হয়েছেন। বিজয় নিজের আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “নেতিবাচক-ইতিবাচক সব ধরনের সমালোচনার তীর আমার দিকে বিঁধেছে। তবে ভক্তদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আমাকে সব সময় শক্তি দিয়েছে। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি এতগুলো বছর কাটিয়েছি।”
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার ‘জানা নায়গান’ ছবির গানমুক্তির অনুষ্ঠানে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র জগৎকে বিদায় জানান। মঞ্চে তিনি গানের তালে কোমর দোলানোর পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। তিনি জানান, ‘এই ছবি আমার শেষ ছবি হিসেবে চিহ্নিত হবে। চলচ্চিত্র আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল, কিন্তু এখন সময় এসেছে নতুন পথে এগোবার।’
বিজয়ের জন্য এই সময় কেবল চলচ্চিত্র জগতের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতিতে তার পদক্ষেপের লক্ষ্য হবে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় বলেন, “অনুরাগীরা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। আগামী ৩৩ বছর আমি তাদের জন্য কাজ করতে চাই। রাজনীতিবিদ হিসেবে বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমাকে ভক্তদের ঋণ শোধ করতে হবে।”
তামিল চলচ্চিত্র জগতে থালাপতি বিজয় শুধু অভিনয় দিয়েই নয়, বরং তার রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্যও জনপ্রিয় ছিলেন। চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবে বিজয় অনন্য স্থান অর্জন করেছেন, এবং তার প্রতিটি চরিত্র ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। অভিনয় জীবনের এই বিদায়ের মুহূর্তে অনুরাগীদের মধ্যে শোক ও ভালোবাসার মিশ্রণ দেখা যায়।
বিজয়ের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি যে ধরনের সামাজিক বার্তা ও রাজনৈতিক সচেতনতা প্রদর্শন করেছেন, তা তার রাজনৈতিক যাত্রার জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তিনি চলচ্চিত্র জগত থেকে সরে আসলেও ভক্তদের সঙ্গে তার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এই সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একদিকে চলচ্চিত্র জগৎ তার বিদায়কে স্মরণীয়ভাবে মনে রাখবে, অন্যদিকে রাজনীতিতে তার নতুন যাত্রা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। ৩৩ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে আসা বিজয় এখন একটি নতুন পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে।
তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের সমাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত নয়, বরং দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে এক যুগের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভক্তরা তাকে বিদায় জানাচ্ছেন আবেগাপ্লুত চোখে, আর নতুন রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণে তার প্রত্যাশা ও উত্তেজনা সবজায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।