প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন পপ সংগীতের মহাশক্তি বিয়ন্সে নোলস-কার্টার এবার ইতিহাস রচনা করেছেন। বিশ্বের সেরা পপ তারকাদের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া এই গায়িকা, গীতিকার ও অভিনেত্রী ফোর্বসের বিলিয়নার তালিকায় প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছেন। ‘ডেস্টিনি’স চাইল্ড’ গ্রুপের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা বিয়ন্সে পরে একক শিল্পী হিসেবে ‘কুইন বে’ খ্যাতি অর্জন করেন এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তদের হৃদয় জয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক শক্তিও অর্জন করেছেন।
ফোর্বসের তথ্যমতে, বিয়ন্সের সম্পদের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের পঞ্চম সংগীতশিল্পী হিসেবে বিলিয়নেয়ার ক্লাবে স্থান পেয়েছেন। এর আগে এই সম্মান জিতে নিয়েছেন টেলর সুইফট, রিহানা, ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং বিয়ন্সের স্বামী ও র্যাপার জে-জি।
২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত ‘রেনেসাঁ ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ বিয়ন্সের ক্যারিয়ারে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই ট্যুর থেকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ পপ তারকাদের সঙ্গে সমান মর্যাদা দিয়েছে। তাছাড়া ট্যুরের কনসার্ট নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র থেকে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা তার সম্পদের পরিমাণ বিলিয়নেয়ার সীমার ওপরে ঠেলে দিয়েছে।
কেবল সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিয়ন্স একজন সফল ব্যবসায়ী ও প্রযোজকও। তার প্রযোজনা সংস্থা ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ চলচ্চিত্র ও সংগীত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিচালনা করছে, যা তাকে শিল্পী হিসেবেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করেছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি ডলার ছিল। সেই পূর্বাভাসই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে, যা তার দৃষ্টান্তমূলক ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার প্রমাণ।
বিয়ন্সের অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার অসাধারণ সংগীত দক্ষতা। তিনি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী শিল্পী হিসেবে রেকর্ড করেছেন, মোট ৩২টি গ্র্যামি অর্জন করেছেন। তার প্রতিটি অ্যালবাম, কনসার্ট এবং সংযুক্ত চলচ্চিত্র প্রজেক্ট বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তার জনপ্রিয়তা এবং আর্থিক সাফল্য কেবল সংগীত প্রভুত্ব নয়, বরং একজন শিল্পী, ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতি প্রভাবশালীর প্রতিফলন।
বিয়ন্সের এই অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বিশ্বজনীন সংগীত ও বিনোদন শিল্পে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। তার ক্রীড়ামূলক এবং ব্যবসায়িক দক্ষতার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডও তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। তিনি নারী নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছেন।
বিয়ন্সের ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, কেবল প্রতিভা নয়, ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং ব্যবসায়িক বিচক্ষণতাই শিল্পীকে স্থায়ী মর্যাদা এনে দিতে পারে। ফোর্বসের বিলিয়নার তালিকায় স্থান পাওয়ার মাধ্যমে বিয়ন্সে বিশ্বের সবচেয়ে সফল এবং প্রভাবশালী পপ তারকাদের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী তার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবরকে উদযাপন করেছেন এবং শিল্পী হিসেবে তার অবদান, সামাজিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বের প্রশংসা করেছেন। বিয়ন্সের এই অর্জন প্রমাণ করে, আধুনিক বিনোদন জগতের নারী শিল্পীরাও অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রভাবশালী হতে পারেন।