বেগম খালেদা জিয়া, আপনি জিতে গেলেন—পরীমণির আবেগঘন বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
বেগম খালেদা জিয়া আপনি জিতে গেলেন—পরীমণির আবেগঘন বার্তা

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ পুরো দেশ। রাজনীতি, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিনোদন—সব অঙ্গনেই নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এমনই এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি, যার লেখা কয়েকটি বাক্য ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে পরীমণি লিখেছেন,
“তিনি চলে গেলেন..! তিনি সয়ে গেলেন, তিনি রয়ে গেলেন। তিনি এভাবেই থেকে গেলেন এই মানচিত্রে। বেগম খালেদা জিয়া আপনি জিতে গেলেন আসলে…।”
সংক্ষিপ্ত এই লেখার মধ্যেই ফুটে উঠেছে এক ধরনের গভীর মানবিক অনুভব, যেখানে রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে একজন মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, সহনশীলতা এবং ইতিহাসে তার অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পরীমণির এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই তার এই বক্তব্যকে দেখছেন একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে, আবার কেউ কেউ বলছেন—এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে স্মরণ করার ভিন্ন এক ভাষা। শোবিজ অঙ্গনের একজন জনপ্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে আবেগঘন বক্তব্য আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন। লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস এবং বিভিন্ন সংক্রমণজনিত সমস্যার কারণে তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি ঘটছিল। গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাকে কেবিন থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, স্থগিত করা হয় বিভিন্ন কর্মসূচি। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন শোক ও স্মৃতিচারণ চলছে, তেমনি সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতেও তার প্রয়াণ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। পরীমণির পোস্ট সেই প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ে তার ভাষা ও উপস্থাপনার কারণে।

চিত্রনায়িকা পরীমণি সাধারণত তার ব্যক্তিগত জীবন, কাজ এবং সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে সরব থাকেন সামাজিক মাধ্যমে। তবে এ ধরনের জাতীয় শোকের মুহূর্তে তার লেখা অনেকের কাছে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, “তিনি জিতে গেলেন”—এই কথাটির মধ্য দিয়ে পরীমণি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন, নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক চাপ, অসুস্থতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের পরও ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া নিজের অবস্থান অটুট রেখে গেছেন। আবার কেউ বলছেন, এটি একজন নারীর জীবনের লড়াইয়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান দিনাজপুর হলেও পারিবারিক শিকড় ফেনী জেলার পরশুরামের শ্রীপুর গ্রামে। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা বেগম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা তার জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও সংগ্রামে ভরা।

তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় এবং ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবন যেমন সমর্থনে ভরা ছিল, তেমনি ছিল বিতর্ক, আন্দোলন ও প্রতিকূলতায় পরিপূর্ণ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন অসংখ্য অনুসারীর ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি নানা সময় কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে তার মৃত্যুতে সেই সব মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তাকে স্মরণ করছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে। পরীমণির পোস্টও সেই বৃহত্তর আবেগেরই একটি প্রতিফলন, যেখানে রাজনীতি নয়, বরং মানুষের জীবনসংগ্রাম ও ইতিহাসে থেকে যাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, শোবিজ তারকাদের এমন প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করে। রাজনীতির কঠিন ভাষার বাইরে গিয়ে তারা যে আবেগী ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, তা অনেক সময় মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরীমণির লেখা কয়েকটি বাক্যও ঠিক তেমনই এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের জন্যই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। সেই অধ্যায়কে স্মরণ করেই কেউ দোয়া করছেন, কেউ স্মৃতিচারণ করছেন, আবার কেউ পরীমণির মতো কয়েকটি বাক্যে প্রকাশ করছেন গভীর অনুভব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো এই শোকের আবহ কেটে যাবে, কিন্তু ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার নাম থেকে যাবে—সমর্থন ও বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত