প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এক যুগান্তকারী নেত্রী হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নগরবাউল এবং সংগীতশিল্পী জেমস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে জেমস দেশবাসীর মতোই ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং প্রয়াত নেত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ এই উক্তির মাধ্যমে জেমস দেশের মানুষের পাশাপাশি নিজেও বেদনা ও শোককে ব্যক্ত করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচণ্ডভাবে ভাইরাল হয়েছে।
শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জেমস আরও লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা যেন খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত করেন—আমিন।’ এই পোস্টে তার আবেগঘন ভাষা এবং আন্তরিক প্রার্থনা সামাজিক মিডিয়ায় অনেকের হৃদয় স্পর্শ করেছে। শিল্পী হিসেবে জেমস সব সময়ই দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাই তার এই শোকবার্তা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়া ৪১ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশের রাজনীতিতে আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৮ সালে, আর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন জুড়ে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র ও দেশপ্রেমের জন্য অগাধ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
স্বাস্থ্যগত কারণে গত ৪০ দিন ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার মধ্যে ছিল লিভার ও কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও বিভিন্ন সংক্রমণজনিত সমস্যা। তার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শোকবার্তায় জেমসের আবেগ ও প্রার্থনা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষের জন্য নয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদেরকেও আবেগপ্রবণ করেছে। তার পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ তাদের মন্তব্যে সহমর্মিতা, শোক এবং নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। শিল্পী হিসেবে জেমসের এই পোস্ট নতুন প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
শিল্পী জেমসের মতন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা যখন দেশের অন্যতম রাজনৈতিক নেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন, তখন তা শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের রাজনীতিতে, নারী নেতৃত্বে এবং গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় অনস্বীকার্য। নগরবাউল জেমসের মতো শিল্পী ও সাধারণ মানুষ তাদের শোকবার্তা প্রকাশের মাধ্যমে দেশের জন্য তার অবদানকে সম্মান জানাচ্ছেন। তার জীবন ও সংগ্রাম ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, ধৈর্য ও নেতৃত্বের গুরুত্ব বোঝাবে।
শোকবার্তায় জেমস শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, ব্যক্তিগতভাবে একজন মানবিক এবং মমতাময়ী নেত্রীকে স্মরণ করেছেন। তার পোস্টে থাকা আন্তরিক প্রার্থনা ও সমবেদনা দেশের নাগরিকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যাবে। এই ধরণের শোকপ্রকাশ এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যকেও শক্তিশালী করবে।
নাগরবাউল জেমসের পোস্টটি প্রমাণ করে যে, নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও শূন্যতা তৈরি করেছে। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিল্পী, নাগরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছেন।