প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে চলছে গভীর শোক ও স্মৃতির মাতম। এ সময় রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতারা তাঁর অবদান ও দেশপ্রেমের প্রতি অটল অবস্থানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ফারুকী লিখেছেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদার রাজনীতিকে বছরের পর বছর যারা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের যোগসাজশে অবজ্ঞা করতে চেয়েছিলেন, তারা আজ এ রাজনীতিক দৃষ্টিভঙ্গি উদযাপন করছেন। এ থেকে বোঝা যায়, দেরিতে হলেও তারা বুঝতে পেরেছেন—সার্বভৌমত্ব ও ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি আর অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অন্য কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রশ্নের আড়ালে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আড়াল করা যাবে না। বাংলাদেশের জন্য চব্বিশের এটাই শ্রেষ্ঠ উপহার। আনন্দের বিষয় হলো, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন যে বিষয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করেছেন, জীবদ্দশায় তার ফলও দেখতে পেয়েছেন।”
ফারুকী আরও বলেন, “তিনি যে আজকে এ রকম সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছেন, তার পেছনে অন্যতম কারণ তার দেশের প্রশ্নে অনমনীয় অবস্থান। এ কারণে তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এতটাই প্রাসঙ্গিক এবং প্রভাবশালী। তার জীবদ্দশায় দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের মান এইভাবেই সমাদৃত হয়েছে।”
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের নাম। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও উন্নয়নের ধারা দেখতে পায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় রাজনীতি, সাংস্কৃতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সারা দেশে শোকসভা, স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তাঁর নেতৃত্বের স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও দায়িত্বের শিক্ষাই দিচ্ছে।
ফারুকীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে যে সংগ্রাম হয়েছে, তার মূল্যায়ন আজও চলমান। তিনি বলেছেন, “খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সময় যে নীতি ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা হয়েছিল, তা আজও দেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবদ্দশায় সেই নীতি বাস্তবায়নের প্রতিফলন দেখা গেছে, যা নতুন প্রজন্মের জন্যও শিক্ষণীয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায় দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য যে অবদান রেখেছেন, তা ভবিষ্যতেও প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের ইতিহাস দেশের রাজনীতিতে এক অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছে।
ফারুকী ও অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন কেবল ক্ষমতার উচ্চশীর্ষে ওঠার গল্প নয়, বরং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, নীতি ও সাহসের প্রতিফলন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ফলে যে মান ও মর্যাদা অর্জিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতের নেতাদের জন্যও একটি দিকনির্দেশনা।
এইভাবে, খালেদা জিয়ার বিদায় শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসের নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব, নীতি ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফারুকী তার স্ট্যাটাসে স্পষ্ট করেছেন যে, এই নেতা শুধু ক্ষমতার স্থানে বসেছিলেন না, বরং দেশের জন্য যে অনমনীয় অবস্থান নিয়েছিলেন, তা আজও বর্তমান প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয় ও প্রেরণাদায়ক।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশীয় রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মহলে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সমাপ্তি বয়ে এনেছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মন্তব্য সেই ইতিহাস ও প্রভাবকে তুলে ধরেছে, যা শুধু অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।