প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গত তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের উচ্চতায় দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ডলার কেনার ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমই রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকও নিলামের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। এছাড়া বিদেশি ঋণের আসাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার ক্রয় করেছে। এসব ডলার প্রতি ১২২ টাকা ৩০ পয়সা হারে কেনা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার ডলার ক্রয় করেছে, যার মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ডলার কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছাবে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা কোনো সংস্থার ঋণে নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ভালো পদক্ষেপ।
প্রবাসী আয়ও চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় দেশে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার হয়েছে, যা পূর্ববর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই রেকর্ড রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানিতে মসৃণ লেনদেন নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর নিলাম নীতি একত্রে রিজার্ভের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, দেশীয় মুদ্রার বাজারে ডলারের চাহিদা মেটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে রিজার্ভের এই বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সরকারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সার্বিকভাবে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত ডলার ক্রয় রিজার্ভকে ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, যা অর্থনীতিতে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে।