প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ অবস্থা বর্তমানে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, কারণ মুদ্রাবাজারে বড় ধস, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ক্ষোভ আরও তীব্র করেছে। প্রতিবাদ শুরু হয় রোববার থেকে, যেখানে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে। বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় সরকার ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ লোরেস্তানে কমপক্ষে এক আধাসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ফাসা শহরে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামেদান ও লোরেস্তান প্রদেশেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা গভর্নরের কার্যালয়ের গেট ভেঙে ফেলেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ছুড়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রাজধানী তেহরানে ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সরকার দাবি করছে, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত শীতের তীব্রতায় জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ। কিন্তু অনেক ইরানি মনে করছেন, এই পদক্ষেপ মূলত বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের কৌশল।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট মূলত চলমান অর্থনৈতিক সংকট। ডলারের বাজারে ইরানি মুদ্রার মূল্য হঠাৎ পতনের পর ক্ষুব্ধ দোকানি ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্রুত এতে যোগ দেন এবং দেশের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় শাসকবৃন্দের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানি নাগরিকরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি নীতির বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রতিফলন। মুদ্রাবাজারে মূল্য পতন, বেকারত্ব, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ক্ষোভকে তীব্র করছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার কারণে যুবসমাজ ও নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইরানের মুদ্রা দুর্বল হওয়ার ফলে আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরকারি নীতি বাস্তবায়নের ব্যর্থতার কারণে জনগণের জীবনমান বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের প্রভাবিত করতে পারে।
সরকারের সীমিত নীতিমালা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিক্ষোভ দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক শহরে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তাদের মৌলিক অধিকার ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সংশোধনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন।
বিশ্বসংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বিপুল ক্ষোভে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ও আহতের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। সরকারের কঠোর পদক্ষেপও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অক্ষম হচ্ছে।
অর্থাৎ, ইরানে ২০২৬ সালের শুরুতেই অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বিস্তৃত বিক্ষোভ এবং সামাজিক অস্থিরতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।