প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে বাংলাদেশি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) আইপিএল দলভুক্ত করার পর বলিউড বাদশা শাহরুখ খান ভারতের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম এই সিদ্ধান্তকে দেশদ্রোহীতার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরাটে এক জনসভায় সোম বলেন, ‘একদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে শাহরুখ খান আইপিএলে ক্রিকেটার কিনছেন। ৯ কোটি টাকায় মুস্তাফিজকে কেনা এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকেরা এই দেশে থাকার অধিকার রাখে না।’
সোম শাহরুখ খানের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই দেশের মানুষ আপনাকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। যদি আপনি অর্থ উপার্জন করেন, সেটা এই দেশের মধ্যেই হবে। কিন্তু দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তার পরিণতি মেনে নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজের মতো খেলোয়াড়রা ভারতে এলে বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারবে না।’
এই বিতর্কে কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুত বিজেপির সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন, “এটি একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ, যেখানে শাহরুখকে শুধুমাত্র তার ধর্মকে ভিত্তি করে আক্রমণ করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় এবং বিতর্কিত।”
শাহরুখের সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের আইপিএল দলে নেওয়া, অনেক ক্ষেত্রে ক্রীড়া ও বিনোদনকে জাতীয় রাজনীতির বাইরে রাখার প্রচেষ্টা হলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এটি নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রীড়া এবং বিনোদনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও জাতীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে সমালোচনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।
মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিভা দেখিয়েছেন, আইপিএলের প্রতি আগ্রহী ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছেন। কেকেআরের জন্য তার দক্ষতা এবং কাটার স্টাইল দলকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা ও বিতর্কে এই ক্রীড়াবিদও সরাসরি সংযুক্ত হয়ে পড়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইপিএলের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ক্রীড়ার মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কখনো কখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার বিষয়টি কেবল ক্রীড়া বিষয় নয়, বরং ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতেও তা গভীর প্রভাব ফেলেছে।
এই বিতর্ক দেশের ভক্ত, সমালোচক এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরেও এসেছে। বিশেষ করে, ধর্ম, জাতীয়তা এবং ক্রীড়ার মিশ্রণে তৈরি হওয়া এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি ভবিষ্যতে সমাধান ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।
শাহরুখের কেকেআর দলভুক্তি এবং মুস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণ ভারতীয় ক্রিকেট এবং বিনোদন জগতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তর্ক উসকে দিয়েছে, যেখানে সমালোচকরা ধর্ম এবং জাতীয় পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, আবার সমর্থকরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াকে উৎসাহিত করার পক্ষে আছেন।
এভাবে ক্রীড়া, বিনোদন ও রাজনীতির সংযোগ এই মুহূর্তে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমাজে ক্রীড়া ও বিনোদনকে রাজনৈতিক উত্তেজনার বাইরে রাখতে শিক্ষামূলক প্রচেষ্টা এবং সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।