‘কোটিপতি’ নাটক দেখাচ্ছে মধ্যবিত্ত জীবন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
‘কোটিপতি’ নাটক দেখাচ্ছে মধ্যবিত্ত জীবন

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সামাজিক মাধ্যমে নাটক ‘কোটিপতি’ মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মুক্তির মাত্র ছয় দিনে ইউটিউবে নাটকটি পেয়েছে ১.৪ কোটি ভিউ এবং ২.৪ লাখ লাইক। দর্শকরা নাটকটির গল্পকে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং মানুষের জীবনের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত বার্তা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নাটকটি দেখিয়েছে কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও একটি সাধারণ, মধ্যবিত্ত জীবন যাপনের অনন্য গল্প।

‘কোটিপতি’ নাটকটি সিএমভি’র ব্যানারে নির্মাণ করেছেন পরিচালক এস আর মজুমদার এবং চিত্রনাট্য রচনা করেছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন। প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহান আহমেদ জোভান ও কেয়া পায়েল। নাটকে একটি পরিবারকেন্দ্রিক গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ধনী পরিবারের সদস্যরা কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও মধ্যবিত্ত জীবনধারাকে গুরুত্ব দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টায় নিয়োজিত।

২৬ ডিসেম্বর সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া এই নাটক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা বয়ে এনেছে। নাটকটির গল্পের সঙ্গে দর্শকরা নিজেদের জীবন এবং মূল্যবোধের সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছেন। আরিফুল ইসলাম নামের একজন দর্শক মন্তব্য করেছেন, ‘এই নাটকটা শুধু বিনোদন নয়, নতুন প্রজন্মের জন্য দিক নির্দেশনা।’ নাজিম নামের অন্য দর্শক লিখেছেন, ‘পুরো নাটকটা দেখে যা বুঝলাম প্রত্যেক কোটিপতির মধ্যে এমন মনুষ্যত্ব থাকা দরকার।’ সম্রাট খান মন্তব্য করেছেন, ‘নাটকটা দেখে মনে হলো অনেক কিছু শিখতে পারি, অসংখ্য ধন্যবাদ পরিচালককে এবং জোভান ভাইকে।’ এমডি শুভ আরও লিখেছেন, ‘বাস্তবেও যদি মানুষ এমন হতো, তাহলে শুধু শয়তানই জাহান্নামে যেত।’

নাটকের সিনেমাটোগ্রাফি পরিচালনা করেছেন বিকাশ সাহা ও শরীফ রানা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, কিংকর আহসান, নাদের চৌধুরী এবং মিলি বাশার। নাটকের প্রেক্ষাপট সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেছে, যেখানে ধনী-গরীব, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-সহকর্মী এবং আত্মীয়-স্বজনরা মিলে হাসি ও কান্নার মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন যাপনের চেষ্টা করছেন।

পরিচালক এস আর মজুমদার বলেন, ‘এটি মূলত সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটের একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক। যেখানে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মী সবাই মিলে হাসি-কান্নার মধ্য দিয়ে জীবন-যাপনের চেষ্টা করে। দর্শকরা যেভাবে আমাদের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন, তা দেখে আমরা অভিভূত।’ প্রযোজক ও পরিবেশক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু বলেন, ‘কোটিপতি হওয়া গর্বের হতে পারে, কিন্তু মানুষের মানবিকতা এবং সহানুভূতিই আসল সম্পদ। জীবন চালানোর জন্য যা প্রয়োজন, ঠিক তাই যথেষ্ট। বাকি যে অতিরিক্ত থাকে, তা মানুষের কল্যাণে দিলেই টাকার আসল মূল্য বোঝা যায়। এই বার্তা আমরা নাটকের মাধ্যমে সমাজে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। দর্শকরা এটি সাদরে গ্রহণ করেছেন, তাই আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক মনে হচ্ছে।’

নাটকটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক বার্তাও বহন করছে। এটি মানুষের জীবনে সহানুভূতি, দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। দর্শকরা দেখেছেন, কোটিপতি হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের মূল্যবোধ, সম্পর্ক ও নৈতিকতার প্রতি যত্ন নেওয়াই জীবনের আসল সম্পদ। এই বার্তা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় এবং উদ্বুদ্ধকামী।

‘কোটিপতি’ নাটকের সাফল্য প্রমাণ করছে যে, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের গল্প দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারে। দর্শকরা শুধু নাটকটি দেখছেন না, বরং নিজেদের জীবনের সঙ্গে তুলনা করছেন। এই নাটক জনপ্রিয় হওয়ার এক বড় কারণ হলো এটি মানবিক অনুভূতি ও বাস্তব জীবনের জটিলতা মেলানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

নাটকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, তেমনি এটি দর্শকদের মননে মানুষের প্রাধান্য, সহানুভূতি ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতা জাগিয়েছে। দর্শকরা নাটকের চরিত্রদের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ অনুভব করছেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট নৈতিক সিদ্ধান্ত ও মানসিকতা নিয়ে ভাবছেন।

মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মধ্যে ১.৪ কোটি ভিউ এবং লক্ষাধিক লাইক প্রমাণ করছে, দর্শকরা ‘কোটিপতি’র গল্পকে গভীরভাবে গ্রহণ করছেন। নাটকটি রাজনীতির আলোচনার চেয়ে বেশি সামাজিক মাধ্যম ও বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত