প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৫ সালের শেষ মুহূর্তকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সূচনা হলো নানা উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার সঙ্গে। সাধারণ মানুষ যেমন নতুন বছরের জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা করে, তেমনি বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও নতুন বছরে নিজেদের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এই ধারার অন্যতম একজন প্রখ্যাত অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের জন্য যে পরিকল্পনা করেছেন তা শেয়ার করেছেন।
সিয়াম লিখেছেন, ‘গেল বছরটা শুরু হয়েছিল অনেক আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে। ঠিক সেই সময়ে বিনোদনের কাজ আরও জরুরি হয়ে ওঠে। মানুষকে বাস্তব জীবনের চাপ থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া, কিছুক্ষণ হাসানো, কাঁদানো বা নতুন একটি জগতে প্রবেশ করানো—এই কাজগুলোই একজন অভিনেতার মূল দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিনোদনের মাধ্যমে মানুষকে সংযুক্ত করা ও তাদের মনের অনুভূতি স্পর্শ করা সত্যিই আমার পেশার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
সিয়ামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘জংলি’। তিনি জানান, সিনেমা হলে লাখো মানুষ পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখেছেন। দর্শকরা হাসছেন, কেঁদে ফেলছেন, পরম মমতায় চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করছেন। তিনি নিজেও সিনেমা হলে দর্শকদের আবেগ দেখেছেন—যেখানে বাবা সন্তানকে আঁকড়ে ধরেছেন, মায়ের চোখে অঝোরে পানি ঝরছে। সিয়াম বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা দেখেই একজন অভিনেতা নিজের কাজে তৃপ্তি অনুভব করে। এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে!’
শাকিব খানের ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় তার অভিনীত ক্যামিও চরিত্র আরমান মনসুরের প্রসঙ্গেও সিয়াম লিখেছেন, ‘আপনারা জনি বা জংলির মতো চরিত্রকে যেমন গ্রহণ করেছেন, তেমনি আরমান মনসুরকেও হৃদয় খুলে দেখেছেন। এমন ছোট চরিত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া পোস্টার, মিম, ভিডিও ম্যাশআপ ও বিজিএম পাঠানোর প্রতিক্রিয়া সত্যিই ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। একজন অভিনেতা হিসেবে সব সময় নিজেকে চ্যালেঞ্জ দেওয়া আমার লক্ষ্য।’
নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়েও সিয়াম শেয়ার করেছেন, ‘এবার নতুন চ্যালেঞ্জের পালা। নতুন বছরে আমি আপনাদের জন্য আরও নতুন চরিত্র ও নতুন গল্প নিয়ে আসব। দর্শকের ভালো লাগা বা মন্দ লাগাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। তাই এমন কিছু গল্প হাতে নিয়েছি, যেখানে আবারও রাক্ষস আন্ধারে জংলি হয়ে উঠব।’
সিয়ামের এই পরিকল্পনা কেবল তার অভিনয় জীবনের জন্য নয়, বরং দর্শকদের সঙ্গে একটি বিশেষ সংযোগ তৈরি করার কথাও বলে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দর্শকরা সিনেমা হলে গিয়ে তাঁর চরিত্রগুলোকে উপভোগ করবেন এবং নতুন বছরের প্রতিটি মুহূর্তে বিনোদনের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত রাখবেন। তিনি আরও লিখেছেন, ‘সিনেমা হলের সিটটা শক্ত করে ধরুন, পপকর্নের বক্সটা কাছে রাখুন—কারণ আমি স্ক্রিনে আগুন ধরিয়ে দেব। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই আমার সিনেমা পরিবারকে।’
সিয়ামের কথায় প্রতিফলিত হয় একজন শিল্পীর আবেগ, দর্শকদের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ এবং পেশাগত দায়িত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা। দর্শকরা যেমন তাঁর চরিত্রগুলোকে ভালোবাসেন, তেমনি তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আনন্দ, উত্তেজনা ও আবেগের রঙ যোগ করতে সক্ষম হন। এইভাবে, নতুন বছর ২০২৬-এ সিয়ামের চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা কেবল নিজের সৃজনশীলতায় সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দর্শকদের সাথে একটি মানসিক ও আবেগঘন সংযোগ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত।
সিনেমা, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং দর্শকদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সিয়াম আহমেদ নতুন বছরের শুরুতেই নিজের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন—দর্শকদের বিনোদন দেওয়া এবং নতুন গল্পের মাধ্যমে তাদের হৃদয় স্পর্শ করা। নতুন বছরে তার প্রতিটি অভিনয়, প্রতিটি চরিত্র দর্শককে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে এবং বিনোদন জগতে তার অবদান আরও সমৃদ্ধ করবে।
নতুন বছরের প্রথম দিনে সিয়ামের এই পরিকল্পনা ও আবেগের প্রকাশ কেবল চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং পুরো বিনোদন অঙ্গনের জন্য এক অনুপ্রেরণা। ২০২৬ সালে সিয়ামের যাত্রা দর্শকদের চোখে আনন্দ, উত্তেজনা এবং আবেগের সমৃদ্ধ ভ্রমণ উপহার দেবে, যা প্রত্যেক দর্শককে সিনেমার জাদুতে মাতিয়ে রাখবে।