গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় লাশের সারি: নিহত অন্তত ১৭, আশঙ্কাজনক বহু আহত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৫০ বার
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় লাশের সারি: নিহত অন্তত ১৭, আশঙ্কাজনক বহু আহত

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজা উপত্যকার আকাশে ভোর থেকেই গর্জে উঠেছে যুদ্ধবিমান, আর মাটিতে নামছে মৃত্যুর ছায়া। ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর লাগাতার হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একাধিক শিশু, নারী এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্য। বিধ্বস্ত হয়েছে বহু আবাসিক ভবন ও বসতঘর। আতঙ্কে প্রিয়জনের মৃতদেহ জড়িয়ে কাঁদছে মানুষ, আবার কেউ খুঁজে ফিরছে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জনদের খণ্ডিত দেহাবশেষ।

আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের এক চিকিৎসা কর্মকর্তার বরাতে আল জাজিরা আরবি জানিয়েছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি তিনতলা ভবনে বোমা আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে একটি সম্পূর্ণ পরিবার। রাত গভীর হতে না হতেই ওই বাড়িটি ধসে পড়ে, সেখানেই নিথর হয়ে যায় এক শিশু, তার মা ও বাবা।

এদিকে গাজার রেমাল ও শেখ রাদওয়ান এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিমান হামলার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। কয়েক মুহূর্ত পরই তারা দেখেন পাশের ভবনগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে রক্তাক্ত লাশ। আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, এই এলাকায় হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে গাজার তুফফাহ এলাকার জাফফা স্ট্রিটে তিনতলা একটি বাড়ির উপর সরাসরি বোমা নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বিমান। বাড়িটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। নিহত হয় আরও চারজন, আহত অন্তত ১০। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বহু মানুষ কাঁদছে ধ্বংসের স্তূপে প্রিয়জনের নাম ধরে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হামাসের সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যেসব জায়গায় বোমা পড়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই আবাসিক এলাকা। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই চালানো এই হামলায় সাধারণ মানুষ এক প্রকার ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। তারা এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের একটি বড় অংশই শিশু ও নারী। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ডাক্তাররা জানান, আহতদের অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা যেতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গাজা শহরের আকাশে এখনও ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান চক্কর দিচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে ফের বোমা পড়ার আশঙ্কায় কেউই নিরাপদ বোধ করছেন না। শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া যাচ্ছে না, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট আরও সংকটকে তীব্র করছে।

তুরস্ক, কাতার, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার এমন ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং মানবাধিকারের সরাসরি অপমান বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ধরনের অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকলে শুধু গাজা নয়, পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা চরমে পৌঁছাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা অনেকের কাছেই একধরনের মৌন সম্মতির সমান মনে হচ্ছে। এখন প্রয়োজন মানবিক সহায়তার জন্য অবিলম্বে করিডোর খুলে দেওয়া এবং সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ।

এই মুহূর্তে গাজার প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, যেখানে প্রতিটি শিশু ও নারী বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিঃশব্দে শহীদ হচ্ছে। মানবতার এই সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব কতদিন চুপ করে থাকবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত