ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নাকচ করল লেবানন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নাকচ করল লেবানন

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দিয়েছে লেবানন। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বৈরুতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘স্বাভাবিকীকরণ’ কোনোভাবেই বিবেচনায় নেই। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সম্ভাবনা এবং সংঘাতহীন পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এই বক্তব্য লেবাননের রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে আরও সুসংহত করল—বিশেষ করে তখন, যখন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সম্প্রতি এক বিবৃতিতে লেবানন ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই বিবৃতির এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

গতকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আউন বলেন, ‘শান্তি ও স্বাভাবিকীকরণ এক নয়। শান্তি হলো যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুপস্থিতি, যা এই মুহূর্তে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্বাভাবিকীকরণ এখনো লেবাননের পররাষ্ট্রনীতির অংশ নয়।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সাল থেকে লেবানন ও সিরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চল ঘিরে দুই দেশের মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ বহুবার রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে।

নভেম্বরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আউন জানান, এখনো ইসরায়েল লেবাননের সীমান্তের অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে রেখেছে এবং এসব স্থান থেকে তাদের সরে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলি সেনারা এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনীর মোতায়েনের পথে বাধা হয়ে রয়েছে।”

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের লিটানি নদীর উত্তরে সরিয়ে নেওয়া, যা ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। চুক্তি অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে কেবল লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা অস্ত্র বহন করতে পারবে।

তবে এই পরিস্থিতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করার জন্য ক্রমাগত লেবাননের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৈরুত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানালেও তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট আউন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “লেবানন তার নিজস্ব ভূখণ্ডে অস্ত্রের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অঙ্গীকারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

লেবাননের এই ঘোষণায় বোঝা যাচ্ছে, দেশটি এখনো ঐতিহাসিক বাস্তবতার এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংবেদনশীল ও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায়। তবে এই ঘোষণায় আরও একবার প্রমাণিত হলো, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় পরিস্থিতিতে শান্তির বার্তা ও সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা যতই উচ্চারিত হোক না কেন, বাস্তবতা অনেক জটিল এবং বহুস্তরীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত