সর্বশেষ :
ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের বোনাস ফসলে সরিষার বিপ্লব, যশোরে ভোজ্যতেলের নতুন আশা

ডলার বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় হস্তক্ষেপ, আরও ২০৬ মিলিয়ন ডলার কেনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার
২০৬ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিলামের মাধ্যমে আবারও বড় অঙ্কের মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ২০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা চলতি জানুয়ারি মাসে ডলার কেনার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে অর্থনীতিবিদরা ডলার বাজারে ভারসাম্য রক্ষা ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিলামের মাধ্যমে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। একই হারই ছিল কাটঅফ মূল্য। অর্থাৎ, এই দামে বা এর নিচে যেসব ব্যাংক ডলার বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল, সেগুলোর মধ্য থেকেই নির্বাচিত ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তৃতীয় দফার বড় অঙ্কের ডলার ক্রয়। এর আগে জানুয়ারির শুরুতেই একাধিক নিলামে ডলার কেনা হয়েছিল। সব মিলিয়ে শুধু চলতি জানুয়ারিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে প্রায় ৬১৭ মিলিয়ন বা ৬১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এই অঙ্ক দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় উপস্থিতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর পর থেকেই বৈদেশিক মুদ্রাবাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ডলার কেনা-বেচার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। কখনো বাজারে ডলারের চাপ কমাতে বিক্রি, আবার কখনো সরবরাহ বাড়লে রিজার্ভ জোরদার করতে কেনার পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত নিলামের মাধ্যমে মোট কেনা হয়েছে প্রায় ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের সমান। এই পরিমাণ ডলার ক্রয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে ধরে রাখতে সহায়তা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে বিনিময় হারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার তুলে নিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আমদানি ব্যয় বা বৈদেশিক দেনা পরিশোধের সময় রিজার্ভে চাপ না পড়ে। একই সঙ্গে এটি ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে যাওয়া ঠেকাতেও ভূমিকা রাখছে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চলে যাচ্ছে। এতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় একটি স্বচ্ছতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, ডলার বাজারে একটি বার্তা যাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হস্তক্ষেপে প্রস্তুত।

তবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে ডলার কেনা-বেচার এই প্রক্রিয়া সরাসরি প্রভাব ফেলে নিত্যপণ্যের দামের ওপর। ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দামে যে চাপ ছিল, সেখানে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ও স্বচ্ছ ডলার নিলাম ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধারাবাহিক নিলাম কার্যক্রম সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডলার কেনা-বেচার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রিজার্ভের প্রয়োজন, আমদানি-রপ্তানির গতিপ্রকৃতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক চিত্র—সবকিছু মিলিয়েই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। তাই এটি কোনো এককালীন পদক্ষেপ নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া।

সব মিলিয়ে, আরও ২০৬ মিলিয়ন ডলার কেনার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় ও সতর্ক ভূমিকারই প্রতিফলন। অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় এই ধরনের নীতিগত হস্তক্ষেপ বাজারে আস্থা তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত