সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

সুদহার কমানো সহজ নয়: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
সুদহার কমানো সহজ নয়: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ: ১০  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সুদহার কমানো চটজলদি সম্ভব নয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে একটি জটিল প্রক্রিয়া। শুধু একটি বাটনে চাপ দিয়ে সুদহার হ্রাস করা যায় না; বরং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত এবং আর্থিক বাজারের বিভিন্ন উপাদান জড়িত। তিনি বলেন, “ট্রেজারি বিলের সুদহার ইতিমধ্যেই ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমেছে, যা ইতিবাচক উন্নয়ন, তবে এটা সহজলভ্য অর্জন নয়।”

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ ‘ব্যাংকিং আলমানাক’ এর সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই মন্তব্য করেন ড. সালেহউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং ব্যাংকিং আলমানাকের বোর্ড অব এডিটরসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, অর্থ সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার। তারা সবাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং গ্রন্থটিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য পরামর্শ দেন।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অনেকেই স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা না করে শুধুমাত্র সমালোচনায় ব্যস্ত থাকেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। ব্যাংক খাতেও এখন স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, গোলাপের সঙ্গে কাঁটা থাকে। কেবল কাঁটা দেখলে হবে না, আগে গোলাপও দেখতে হবে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এই অবস্থানে এসেছে। এটা একক কোনো সরকারের কৃতিত্ব নয়, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে দেশ এই জায়গায় পৌঁছেছে।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজন এবং স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। “সবাই শুধু ‘আমি, আমি’ নিয়ে ব্যস্ত। আমরা কেউ বলেন না, আমি দিয়ে তো আর নীতি হয় না। এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। এটি আর্থিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।” তিনি মনে করান যে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অপরিহার্য।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা বোঝার জন্য কয়েকটি মৌলিক উপায় রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলো ভঙ্গুর থেকে শক্তিশালী দিকে এগিয়েছে। সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে এই উন্নয়নকে আরও দৃঢ় করা সম্ভব। তিনি বলেন, “সুশাসন বলতে কেবল আর্থিক দুর্নীতি দমন নয়; তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করাও এক ধরনের সুশাসন। তথ্যভিত্তিক এবং স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সুদহার নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। সুদহার হ্রাস মানে শুধু ঋণের ব্যয় কমানো নয়, এটি সরাসরি বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক উন্নয়ন এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। ফলে, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, বাজার বিশ্লেষণ এবং নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া অপরিহার্য।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি নিয়ে কেবল সমালোচনা করা যথেষ্ট নয়। “আমাদের প্রথমে দেখতে হবে, বাংলাদেশ কতোটা অগ্রগতি করেছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে দেশ এখন স্থিতিশীল। এটি অর্জন একক কোনো সরকারের নয়, এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। এই প্রচেষ্টাকে আরও সমৃদ্ধ করতে হলে সরকার, ব্যাংক ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা যদি শুধুমাত্র নিজের প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তবে নীতি গ্রহণও সীমিত হয়। সকলকে মিলে দেশের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল করতে হলে আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।”

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যাচাই করার জন্য পাঁচটি উপায়ে দেশকে মূল্যায়ন করা যায়। সরকারের সময়কাল ধরে অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলো শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তথ্যভিত্তিক সুশাসন, স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের যথাযথ পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। এই সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আর্থিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা সবাই একমত হন যে, ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, সুদহার হ্রাস এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এক দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এটি কেবল ব্যাংক বা সরকার একা করতে পারে না, বরং সমাজের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সঠিক তথ্যভিত্তিক গবেষণা, নীতি নির্ধারণ এবং স্থিতিশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সুদহার কমানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, নীতি গ্রহণ এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ের ফলাফল। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল সমালোচনার মাধ্যমে নয়, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত