বক্স অফিসের রানী জো সালদানা, গড়লেন ইতিহাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
বক্স অফিসের রানী জো সালদানা, গড়লেন ইতিহাস

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউডে বক্স অফিসের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন জো সালদানা। বহুদিন ধরেই তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে সফল অভিনেত্রীদের কাতারে, তবে এবার সেই সাফল্য পেল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। অভিনীত ছবির মোট আয়ের বিচারে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন এই ডোমিনিকান-আমেরিকান তারকা। তাঁর নতুন ছবি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ মুক্তির পরই এই রেকর্ড গড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে, যা সালদানার ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত করেছে আরেকটি বিশাল সাফল্য।

‘দ্য নাম্বার্স’-এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জো সালদানার অভিনীত সব ছবির মোট বক্স অফিস আয় এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন মার্ভেল তারকা স্কারলেট জোহানসন এবং হলিউডের আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনকে। শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ আয়ের ছবিগুলোর অংশ হয়ে ওঠার নজির স্থাপন করেও সালদানা অনন্য।

জো সালদানা একমাত্র অভিনেত্রী, যিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা চারটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এই তালিকায় রয়েছে ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ড গেম’ এবং ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’। এই চারটি ছবিই বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে, যা হলিউডের ইতিহাসে খুব কম শিল্পীর ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে একজন নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে এই কীর্তি তাকে একেবারে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সালদানার ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি মূলত দুটি বিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর ভর করেই বক্স অফিসে এই রাজত্ব গড়ে তুলেছেন। একদিকে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ সিরিজে নেইতিরি চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। অন্যদিকে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে গামোরা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে সুপারহিরো সিনেমার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছেন। ‘গার্ডিয়ানস অফ দ্য গ্যালাক্সি’ সিরিজেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।

এ ছাড়া ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিতে নয়োটা উহুরা চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সিরিজের ছবিগুলো মিলিয়েও বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে। অর্থাৎ শুধু একটি নয়, একাধিক বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নিয়মিত সাফল্যই জো সালদানাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন জো সালদানা। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই সাফল্য কোনো একক মানুষের নয়। তাঁর মতে, অসাধারণ সব সিনেমা, পরিচালকদের আস্থা এবং দর্শকদের ভালোবাসা—এই তিনের সম্মিলনেই সম্ভব হয়েছে এই যাত্রা। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান পরিচালক জেমস ক্যামেরন, জেজে আব্রামস, জো ও অ্যান্থনি রুশো এবং জেমস গানকে। সালদানা বলেন, জেমস ক্যামেরন তাঁর মধ্যে এমন সম্ভাবনা দেখেছিলেন, যা অনেক সময় তিনি নিজেও উপলব্ধি করতে পারেননি।

বিশ্বজুড়ে থাকা ভক্তদের উদ্দেশে তিনি আবেগঘন বার্তায় বলেন, দর্শকদের ভালোবাসা আর সমর্থন ছাড়া এই সাফল্য কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তাঁর ভাষায়, “এই অর্জন আমাদের সবার। আমি শুধু পর্দায় দাঁড়িয়ে গল্পগুলো বলেছি, কিন্তু আপনারাই সেগুলোকে গ্রহণ করেছেন।”

২০২৫ সাল জো সালদানার জীবনে শুধু বক্স অফিসের সাফল্যের জন্যই নয়, বরং শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতির দিক থেকেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা সহ-অভিনেত্রীর অস্কার জেতেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে তিনি ইতিহাস গড়েন প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী হিসেবে, যিনি একাডেমি পুরস্কার অর্জন করলেন। একই ছবির জন্য তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসব, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা এবং ক্রিটিকস চয়েস পুরস্কারও জিতেছেন, যা তাঁর অভিনয় দক্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জো সালদানা মূলত বাণিজ্যিক ছবির অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে ‘এমিলিয়া পেরেজ’-এর মতো চরিত্রনির্ভর ছবিতে তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, তিনি শুধু বক্স অফিসের তারকা নন, বরং একজন পরিণত অভিনেত্রীও। এই সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমানে সালদানা আবারও ফিরেছেন ‘অ্যাভাটার’ জগতে। ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ নেইতিরির চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, জেমস ক্যামেরনের পরিকল্পিত সিরিজ অনুযায়ী তিনি ‘অ্যাভাটার ৪’ (২০২৯) এবং ‘অ্যাভাটার ৫’ (২০৩১)-এও অভিনয় করবেন। ফলে আগামী এক দশকেও বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য বজায় থাকবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

হলিউডের ইতিহাসে খুব কম শিল্পীই আছেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে একই সঙ্গে জনপ্রিয়তা, বাণিজ্যিক সাফল্য এবং সমালোচকদের স্বীকৃতি ধরে রাখতে পেরেছেন। জো সালদানা সেই বিরল তালিকায় নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে ফেলেছেন। বিশেষ করে নারী অভিনেত্রীদের জন্য তাঁর এই সাফল্য এক অনুপ্রেরণার গল্প, যা দেখিয়ে দেয় যে ধারাবাহিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সঠিক গল্প বেছে নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রশিল্পে ইতিহাস গড়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বক্স অফিসের এই রেকর্ড শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়। এটি জো সালদানার দুই দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, তাঁর সাহসী সিদ্ধান্ত এবং দর্শকদের সঙ্গে তৈরি করা বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই রেকর্ড কে ভাঙবেন, সেটি সময়ই বলবে। তবে আপাতত, বক্স অফিসের শীর্ষে জ্বলজ্বল করছে একটাই নাম—জো সালদানা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত