প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ডাম্বুলার মন্থর গতি ও ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুরুর হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের ধাক্কা সামলে লিটন দাস ও শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ঝলমলে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ—১৭৭ রান। শ্রীলঙ্কাকে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছুঁতে করতে হবে ১৭৮ রান।
রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চরিথ আশালাঙ্কা। ব্যাটিংয়ে নেমেই বাংলাদেশ পড়ে যায় চাপে। মাত্র ৭ রানে ফিরে যান ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিম। ইমন করেন শূন্য, তামিম মাত্র ৫। দলের স্কোরবোর্ড তখন ২ ওভারে ৭/২—যা দেখে মনে হয়েছিল, বাংলাদেশ আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিকেই যাচ্ছে।
তবে সেই ধাক্কা কিছুটা সামাল দেন অধিনায়ক লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৫৫ বল স্থায়ী ৬৯ রানের কার্যকর জুটি। হৃদয় ২৫ বলে ৩১ রান করলেও ইনিংসটিকে বড় করতে পারেননি। এক প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নেন লিটন। হৃদয়ের বিদায়ের পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ, করেন মাত্র ১ রান।
এরপর মাঠে নামেন বাঁহাতি ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারী। লিটনের সঙ্গে জুটি গড়েই শুরু করেন দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ৩৯ বলে দুজন গড়েন ৭৮ রানের জুটি, যা দলের ইনিংসের গতিপথ পুরোপুরি পাল্টে দেয়। লিটন তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক। ৫০ বল মোকাবেলা করে ১টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই তিনি আউট হলেও, ততক্ষণে দল ছিল শক্ত অবস্থানে।
শেষদিকে শামীম পাটোয়ারী একাই চালিয়ে যান আক্রমণ। তার ২৭ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার, তবে তার আগেই দলকে এনে দেন সম্মানজনক স্কোর।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৭৭ রান। ব্যাটিংয়ের প্রথম ঝাঁকুনির পর দল যে এমন শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে, তা হয়তো কেউ কল্পনা করেনি। তবে লিটন-শামীম জুটি ম্যাচে ফিরিয়ে আনে আত্মবিশ্বাস এবং গ্যালারিতে তৈরি করে উত্তেজনা।
ডাম্বুলার এই ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ১৭৮ রানের লক্ষ্য মোটেই ছোট নয়। তবে সঠিক লাইন-লেন্থে বল করে পরিকল্পনা মেনে খেলতে পারলে বাংলাদেশ বোলাররা ম্যাচে ফিরতে পারেন—এমনই আশায় বুক বেঁধেছেন সমর্থকরা। ম্যাচের ভাগ্য এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের উপর।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এই লক্ষ্য তাড়ায় কতটা দৃঢ়ভাবে মাঠে নামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দ্বি