মাইনাস ডিগ্রির চ্যালেঞ্জে জমসমে জেন–জি প্রেম ‘ও জান’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
মাইনাস ডিগ্রির চ্যালেঞ্জে জমসমে জেন–জি প্রেম ‘ও জান’

প্রকাশ: ২১  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হিমালয়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিস্ময়কর জনপদ নেপালের মুস্তাং অঞ্চলের জমসম। বরফে ঢাকা পাহাড়, নীল আকাশের বিশালতা আর নিস্তব্ধ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই শহর বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক সিনেমার শুটিংয়ের জন্য পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৭৬০ মিটার উচ্চতায়, কালী গান্ধাকী নদীর তীরে গড়ে ওঠা জমসমকে বলিউডের ‘চ্যালেঞ্জিং ড্রিম লোকেশন’ বলা হয় তার দুর্গমতা ও চরম আবহাওয়ার কারণে। সেই বহুল পরিচিত, অথচ কঠিন লোকেশনেই এবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল ও মডেল–অভিনেতা ফররুখ আহমেদ রেহান। মাইনাস ডিগ্রির তাপমাত্রায় শুট করা হয়েছে তাঁদের অভিনীত নতুন মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ও জান’।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি কোনো ভ্রমণ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শুটিং প্রকল্প। মাইনাস ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ‘ও জান’-এর দৃশ্যধারণ। তুষারপাত, তীব্র শীতল হাওয়া আর শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া পরিবেশে কাজ করা বাংলাদেশের কোনো শুটিং ইউনিটের জন্য নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। বরফে মোড়া পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে প্রেমের দৃশ্য ধারণ করা যেমন নান্দনিক ছিল, তেমনি শারীরিকভাবে ছিল চরম চ্যালেঞ্জের। শুটিং ইউনিটের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিটি শট নেওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে হয়েছে বাড়তি সতর্কতায়।

‘ও জান’ মূলত একটি পিউর রোমান্টিক মিউজিক্যাল ফিল্ম। গেল বছরের আলোচিত গান ‘ময়না’-এর সাফল্যের পর একই টিমের এটি দ্বিতীয় বড় কাজ। আগের মতোই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কোনাল ও নিলয়। গানের কথা লিখেছেন গীতিকার ও গানচিল মিউজিকের কর্ণধার আসিফ ইকবাল। তবে এবার সংগীতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। ঢাকার আভ্রাল সাহির ও কলকাতার লিংকন যৌথভাবে সুর করেছেন গানটির, আর সংগীতায়োজনও করেছেন আভ্রাল সাহির। এই আন্তঃদেশীয় সৃজনশীলতায় গানটির আবহে এসেছে ভিন্ন স্বাদ, যা নির্মাতাদের মতে জেন–জি প্রজন্মের প্রেমের অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরবে।

মিউজিক্যাল ফিল্মটিতে প্রথমবার জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল ও ফররুখ আহমেদ রেহান। নির্মাণে রয়েছেন পরিচালক তানিম রহমান অংশু, যিনি শুরু থেকেই গানের ভিডিওতে ভিন্নধারার চর্চার জন্য পরিচিত। তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি মিউজিক্যাল ফিল্মকে আন্তর্জাতিক লোকেশনের সঙ্গে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যেন দর্শকের চোখে তা সিনেমার বড় ক্যানভাসের মতো ধরা দেয়।

নেপাল থেকে শুটিং শেষ করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সুনেরাহ বিনতে কামাল বলেন, নেপাল এমনিতেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, আর জমসম শহরটি যেন সেই সৌন্দর্যের আরও রহস্যময় রূপ। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি দৃশ্য মনে হয়েছে কোনো শিল্পীর নিখুঁত আঁকা ছবির মতো। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে ছিল কঠিন বাস্তবতা। মাইনাস ৮ ডিগ্রিতে শুটিং করা মোটেও সহজ ছিল না। তবুও এমন একটি জায়গায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি। সুনেরাহ বিশ্বাস করেন, দর্শক শুধু গানটি উপভোগ করবেন না, বরং জমসম শহরের প্রেমেও পড়ে যাবেন। তাঁর মতে, গানটি দেখলে মনে হবে কোনো বলিউড সিনেমার বিশাল ক্যানভাসের গান দেখছেন।

অন্যদিকে ফররুখ আহমেদ রেহান জানান, নেপালের মতো জায়গায় সিনেম্যাটিকভাবে শুটিং করার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। গানটির কথার সঙ্গে দৃশ্যায়নের যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা সচরাচর মিউজিক ভিডিওতে দেখা যায় না। ঠান্ডাজনিত কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও দৃশ্যের সৌন্দর্যের কাছে সেগুলো হার মেনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বছরের শুরুতেই দর্শকদের জন্য এমন একটি কাজ উপহার দিতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের বলেও জানান রেহান।

গানচিল মিউজিকের কর্ণধার ও গীতিকার আসিফ ইকবাল ‘ও জান’-কে জেন–জি সময়ের এক নিটল প্রেমের গল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের প্রেম যেমন সরল, তেমনি আবেগপ্রবণ। সেই অনুভূতিকে কথা, সুর, কণ্ঠ আর দৃশ্যায়নের মাধ্যমে একত্র করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জানান, ‘ময়না’-এর পর দর্শকের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে, তাই ‘ও জান’-এ প্রতিটি স্তরে নতুন কিছু যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পরিচালক তানিম রহমান অংশু বলেন, গানচিল মিউজিক শুরু থেকেই গানের ভিডিওতে নতুন ধারা তৈরির চেষ্টা করছে। ‘ও জান’-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে জমসম শহরের তুষার, পাহাড় আর প্রেম একাকার হয়ে যায়। এটি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত একটি কাজ। ভারতের সিনেমাটোগ্রাফার ও কোরিওগ্রাফার, নেপালের লোকেশন ম্যানেজার এবং বাংলাদেশের পরিচালক ও কো–প্রডিউসার—সবাই মিলেই এই মিউজিক্যাল ফিল্মকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

নতুন বছরকে ‘ও জান’ দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে বছরের প্রথম মাসের শেষ দিনে, ৩০ জানুয়ারি, গানচিল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত এই মিউজিক্যাল ফিল্ম। নির্মাতাদের আশা, মাইনাস ডিগ্রির চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তৈরি হওয়া এই জেন–জি প্রেমের গল্প দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত