মাহি–জয়ের গ্রিন কার্ড হয়নি কেন, জানা গেল কারণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
মাহি–জয়ের গ্রিন কার্ড হয়নি কেন, জানা গেল কারণ

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত দুই মুখ চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও অভিনেতা-পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছু মিলিয়ে তাঁরা বরাবরই দর্শক ও গণমাধ্যমের আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি তাঁদের নাম আবারও আলোচনায় এসেছে, তবে নতুন কোনো সিনেমা বা নাটকের কারণে নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্য নিয়ে করা তাঁদের গ্রিন কার্ড আবেদন এই পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—এমন তথ্য সামনে আসার পর বিনোদন অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মাহিয়া মাহি ও শাহরিয়ার নাজিম জয় দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা দেশটিতে অবস্থান করছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেখানেই স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছিলেন। সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে নাগরিকত্বের প্রথম ধাপ হিসেবে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা হয়। তবে সর্বশেষ যাচাই-বাছাই শেষে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁদের আবেদন এই দফায় অনুমোদন দেয়নি।

বিনোদন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মাহিয়া মাহি ও জয় দুজনেরই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মজীবনের পাশাপাশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার কথা বিবেচনা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে আবেদন পর্যালোচনার সময় কিছু কাগজপত্রের জটিলতা ও তথ্যগত অস্পষ্টতার কারণে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিকেলে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি নিজেই বিষয়টি খোলাসা করেন। জয় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কঠোরতা এসেছে। আগের তুলনায় এখন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি জানান, তাঁর জমা দেওয়া ফাইল পর্যালোচনার সময় কর্তৃপক্ষ কিছু অতিরিক্ত তথ্য ও ডকুমেন্ট চেয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেসব তথ্য পুরোপুরি জমা দিতে না পারায় আবেদনটি এই পর্যায়ে আটকে গেছে।

জয় আরও বলেন, “এটা এমন কিছু নয় যে আমাদের আবেদন স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়েছে। সেগুলো ঠিকভাবে পূরণ করে আবার নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিয়ম মেনে কাগজপত্র আপডেট করে পুনরায় আবেদন করা যাবে।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিষয়টিকে তাঁরা আপাতত একটি প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবেই দেখছেন, চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে নয়।

অন্যদিকে মাহিয়া মাহির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, মাহিও পুরো বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর অবস্থান মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে হলেও ভবিষ্যতে কাজের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। গ্রিন কার্ড না হওয়ায় হতাশা থাকলেও বিষয়টি সাময়িক বলে মনে করছেন তিনি।

গত দেড় বছরে বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের আরও বেশ কয়েকজন তারকা, পরিচালক ও প্রযোজক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ এখনো প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সময়সাপেক্ষ ও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পেশাগত যোগ্যতা, আয়–সংক্রান্ত নথি, কর পরিশোধের ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই করা হচ্ছে।

বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা নতুন কিছু নয়। কাজের সুযোগ, জীবনমান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক শিল্পীই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা ইউরোপের দেশগুলোতে স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছেন। তবে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ নয় এবং এটি পুরোপুরি আইনগত ও নীতিগত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

শোবিজ বিশ্লেষকদের মতে, মাহি ও জয়ের গ্রিন কার্ড না হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম আলোচনা হলেও বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রথম আবেদনে অনুমোদন না মিললেও পরবর্তীতে পুনরায় আবেদন করে সফলতা আসে। তাই এটিকে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বর্তমানে মাহিয়া মাহি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে জয়ও তাঁর সৃজনশীল কাজ ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট নানা পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রিন কার্ড না পাওয়ার এই খবর তাঁদের ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করলেও বাস্তবতা হলো—আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যায় না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মাহিয়া মাহি ও শাহরিয়ার নাজিম জয়ের যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি আপাতত একটি প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করে তাঁরা আবার আবেদন করবেন বলেই জানা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। সময়ই বলে দেবে, এই দুই তারকার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় কোন দিকে মোড় নেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত