প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক আলোচিত প্রতিবেদন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় ৩০,০০০ সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এক ইমেইল বার্তায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেইন ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স জাপান টাইমসকে জানায়, ‘‘আমাদের কাছে রাশিয়ার ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার ৩০,০০০ সেনা পাঠানোর কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই।’’
উল্লেখ্য, সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ইউক্রেনীয় এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া কয়েক মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে এই বিপুল সংখ্যক সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন করতে পারে, যাদের সংখ্যা একেক দফায় ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ জন হতে পারে। এই তথ্য যদিও এখনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ হিসেবে আসেনি, তবুও বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা আরও দাবি করেছে, এই প্রথমবারের মতো তারা সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের সময়সীমা এবং ইউনিট বিভাজনের সম্ভাব্য বিবরণ হাতে পেয়েছে। সেই সঙ্গে আরও ৫০ থেকে ১০০ ইউনিট উত্তর কোরীয় সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে বলেও জানানো হয়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এম২০১০ মেইন ব্যাটল ট্যাংক এবং বিটিআর-৮০ সাঁজোয়া যান।
এই প্রতিবেদনের বিপরীতে উত্তর কোরিয়ার কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং রাশিয়ার ইউক্রেন সংকট সমাধানে ‘পূর্ণ সহযোগিতা’ দিতে প্রস্তুত আছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দেন। তারা ঘোষণা দেন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কৌশলগত, সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর মস্কো ও পিয়ংইয়ং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক মহড়া, অস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় এবং রাশিয়ায় সামরিক সহায়তা প্রেরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশ্বব্যাপী যে জোটগত রাজনীতির নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক তার অন্যতম প্রতীক।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েনের দাবিকে অস্বীকার করলেও, বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক দৃষ্টিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ এমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর হলে, ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—উত্তর কোরিয়া সত্যিই রাশিয়াকে সরাসরি সেনা দিয়ে সহায়তা করবে কিনা? নাকি এটি কেবল প্রচারণামূলক কৌশল মাত্র? যা-ই হোক, বিশ্ব এখন অপেক্ষায় আছে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখার।