প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুনিয়ায় কিম কার্ডাশিয়ান নামটি যেন নিজেই একটি ব্র্যান্ড। তাঁর একটি ছবি, একটি ভিডিও বা একটি মন্তব্য—সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কোটি মানুষের কাছে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কিম নিজে নন; বরং তাঁর ১২ বছর বয়সী কন্যা নর্থ ওয়েস্টের একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভ। আর সেই লাইভে হঠাৎ কিম কার্ডাশিয়ানের উপস্থিতিই তৈরি করেছে নতুন করে আলোড়ন, হাসি আর আবেগের এক মানবিক মুহূর্ত।
কিম কার্ডাশিয়ানের বড় মেয়ে নর্থ ওয়েস্ট। বয়স মাত্র ১২ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক তারকার চেয়েও কম নয়। ইনস্টাগ্রামে নর্থের অনুসারীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। মায়ের মতোই ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ, আত্মবিশ্বাসী এবং সাবলীল নর্থ প্রায়ই লাইভে এসে অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলেন। গতকাল সোমবার এমনই এক লাইভ চলাকালীন হঠাৎ ঘটে যায় ছোট্ট কিন্তু দারুণ মজার এক ঘটনা।
লাইভ চলার মাঝেই নর্থ হঠাৎ দর্শকদের উদ্দেশে বলে ওঠেন, “গাইজ, মনে হচ্ছে আমার মা এসেছে।” এই কথার পরপরই লাইভে থাকা দর্শকদের কৌতূহল চরমে ওঠে। কিম তখন ক্যামেরার বাইরে থাকলেও তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়। ঠাট্টার ছলে কিম বলেন, “তুমি আমার লাইভ কেন দেখছ?”—একেবারেই মা-মেয়ের স্বাভাবিক, ঘরোয়া রসিকতা। এই ছোট্ট কথোপকথনই মুহূর্তের মধ্যে লাইভটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
কিম হাসতে হাসতে জানান, তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে চান না। কিন্তু নর্থ তখন তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে মজার ভঙ্গিতে বলে ওঠেন, “গাইজ, গ্রেটেস্ট অব অল টাইম এখানে।” মেয়ের মুখে এমন প্রশংসা শুনে কিম আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। মজা করে তিনি বলেন, “আশা করি কেউ এটা রেকর্ড করেছে। সে আমাকে গ্রেটেস্ট অব অল টাইম বলেছে। হয়তো আর কখনো এটা শুনতে পাব না। জাস্ট কিডিং, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।” এই কথোপকথন মুহূর্তের মধ্যেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
লাইভে উপস্থিত দর্শকরা কমেন্টে ভালোবাসা, হাসির ইমোজি আর প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। মা-মেয়ের এই স্বাভাবিক ও উষ্ণ সম্পর্কের ঝলক অনেকের কাছেই আলাদা করে ভালো লাগার জায়গা তৈরি করে। নর্থও মায়ের কথার জবাবে ভালোবাসা জানায় এবং কিমকে ক্যামেরার সামনে আসার অনুরোধ করে। তবে কিম তখনো রাজি নন। তিনি জানতে চান, লাইভ আর কতক্ষণ চলবে, কারণ তাঁকে একই ঘরেই থাকতে হবে।
এই পর্যায়ে নর্থ মজা করে এমন এক কথা বলেন, যা শুনে কিম একেবারে চমকে ওঠেন। নর্থ বলেন, লাইভে মুখ দেখালে নাকি কিছু টাকাও কামানো যাবে। এই মন্তব্যে কিম সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান, “কী! না না, তুমি জানো আমি এটা পছন্দ করি না।” কিমের এই প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট বোঝা যায়, সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তিনি কতটা সতর্ক। মজার ছলে বলা হলেও, কিমের এই মন্তব্যে দায়িত্বশীল একজন মায়ের অবস্থান ফুটে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত কিম জানান, তিনি মাঝেমধ্যে শুধু একটু ঢুঁ মারবেন, তবে লাইভে আসবেন না। একই সঙ্গে তিনি নর্থকে মনে করিয়ে দেন, তার ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও হয়ে এসেছে। এই অংশটুকু অনেক দর্শকের কাছেই খুব আপন ও বাস্তব মনে হয়েছে। কারণ, এত বড় তারকা হয়েও কিম এখানে একজন সাধারণ মায়ের মতোই সন্তানের রুটিন আর শৃঙ্খলার কথা ভাবছেন।
এই ছোট্ট লাইভটি শেষ হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও ক্লিপ ও স্ক্রিনশট। ভক্তরা একে বলছেন “সবচেয়ে কিউট সেলিব্রিটি মোমেন্টগুলোর একটি।” অনেকেই মন্তব্য করছেন, কিম কার্ডাশিয়ানকে সাধারণত গ্ল্যামার, ফ্যাশন আর ব্যবসায়িক সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও, এই লাইভে তিনি ধরা দিয়েছেন একেবারে ভিন্নভাবে—একজন হাসিখুশি, যত্নশীল মা হিসেবে।
কিম কার্ডাশিয়ান ও তাঁর সাবেক স্বামী কানিয়ে ওয়েস্টের সংসারে নর্থ ছাড়াও আরও তিন সন্তান রয়েছে—সেন্ট ওয়েস্ট, শিকাগো ওয়েস্ট ও পাসালম ওয়েস্ট। সন্তানদের নিয়ে কিম প্রায়ই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি চেষ্টা করেন তাঁদের যতটা সম্ভব স্বাভাবিক শৈশব দিতে। যদিও তাঁরা জন্মসূত্রেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তবু কিম চান, তাঁর সন্তানেরা শিখুক দায়িত্ববোধ, সীমাবদ্ধতা আর বাস্তব জীবনবোধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লাইভের ঘটনাটি শুধু বিনোদনের নয়; বরং আধুনিক সেলিব্রিটি পরিবারে সন্তানদের ডিজিটাল উপস্থিতি, নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্বের প্রশ্নও সামনে এনে দেয়। কিম যেভাবে লাইভে না এসে দূর থেকেই নজর রেখেছেন এবং আয়ের প্রসঙ্গে আপত্তি জানিয়েছেন, তা অনেক অভিভাবকের কাছেই একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে ধরা পড়েছে।
সব মিলিয়ে, নর্থ ওয়েস্টের একটি সাধারণ ইনস্টাগ্রাম লাইভ কিম কার্ডাশিয়ানের আকস্মিক উপস্থিতিতে পরিণত হয়েছে এক ভাইরাল মুহূর্তে। গ্ল্যামার আর খ্যাতির বাইরে মা-মেয়ের এই খুনসুটি ও ভালোবাসার দৃশ্য প্রমাণ করে, তারকাদের জীবনেও থাকে একদম সাধারণ, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্ত—যা দর্শকদের আরও কাছাকাছি টেনে আনে।