প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউডে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা, গুঞ্জন আর তর্ক-বিতর্ক। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সময়ের অন্যতম বড় তারকা দীপিকা পাড়ুকোন এবং দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ সাই পল্লবী। কাজের সময়সীমা, পারিশ্রমিক এবং পেশাদার দায়বদ্ধতা—এই তিন বিষয়কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন ছড়িয়ে পড়েছে বলিউড থেকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতেও। সর্বশেষ খবরে দাবি করা হচ্ছে, নাগ অশ্বিন পরিচালিত বহুল আলোচিত সাই-ফাই ছবি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিকুয়েলে দীপিকার জায়গায় দেখা যেতে পারে সাই পল্লবীকে।
দীপিকা পাড়ুকোন বর্তমানে বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রভাবশালী অভিনেত্রীদের একজন। একের পর এক সফল ছবি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি এবং হলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কাজের শর্ত নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার সিদ্ধান্ত বলিউডে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর যৌক্তিক দাবি হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে এই ধরনের শর্ত প্রযোজকদের জন্য সমস্যা তৈরি করে।
এই বিতর্কের সূচনা হয় সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গা পরিচালিত ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে দীপিকার বাদ পড়ার খবর প্রকাশের পর। শুরুতে গুঞ্জন ছিল, কাজের সময়সীমা এবং পারিশ্রমিক নিয়ে মতবিরোধের কারণেই ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরে জানা যায়, নির্মাতারাই তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ওই ছবিতে দীপিকার জায়গায় অভিনয় করেন তৃপ্তি ডিমরী। এই ঘটনাই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রশ্ন তোলে—বলিউড কি ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, নাকি তারকাদের শর্ত মানতে অনিচ্ছুক প্রযোজকরা নতুন মুখের দিকে ঝুঁকছেন?
‘স্পিরিট’ সিনেমার পর থেকেই দীপিকার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনায় এসেছে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিকুয়েল। প্রথম পর্বে দীপিকার অভিনীত চরিত্রটি ছিল গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দর্শকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, তার উপস্থিতি ছাড়া সিকুয়েল কল্পনা করাই কঠিন। বিশেষ করে প্রভাসের সঙ্গে তার অন-স্ক্রিন রসায়ন এবং গল্পের আবেগঘন বাঁকগুলো দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
তবে প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, কাজ শুরুর পর থেকেই দীপিকার সঙ্গে নির্মাতাদের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। জানা যায়, তিনি তার পারিশ্রমিক প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানান এবং দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার শর্ত দেন। বড় বাজেটের সাই-ফাই ছবির ক্ষেত্রে দীর্ঘ শুটিং শিডিউল এবং একাধিক ইউনিটে কাজ করার প্রয়োজন হয়। ফলে এই শর্ত মানতে গিয়ে প্রযোজনা সংস্থাকে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত নির্মাতারা সিদ্ধান্ত নেন, সিকুয়েলে দীপিকাকে আর রাখা হবে না।
এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় জল্পনা—কে নিচ্ছেন তার জায়গা? প্রথমে শোনা যায়, আলিয়া ভাটের নাম। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই গুঞ্জন স্তিমিত হয়ে আসে। এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম সাই পল্লবী। দক্ষিণী চলচ্চিত্রে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং চরিত্রে ডুবে যাওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা করে পরিচিত করেছে। ‘প্রেমাম’, ‘ফিদা’, ‘শ্যম সিংহা রায়’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, বড় বাজেটের পাশাপাশি শক্তিশালী গল্পনির্ভর চরিত্রও তিনি সমান দক্ষতায় সামলাতে পারেন।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নির্মাতারা সাই পল্লবীকে দীপিকার চরিত্রেই কাস্ট করতে পারেন। তবে আরেকটি মত রয়েছে—সিকুয়েলে দীপিকার চরিত্রটিকে গল্পের প্রয়োজনে মৃত দেখানো হতে পারে এবং সাই পল্লবীকে সম্পূর্ণ নতুন চরিত্রে পরিচয় করানো হবে। এই দুই সম্ভাবনাই এখন দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত নির্মাতা বা অভিনেত্রীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীপিকা নাকি এই ছবির জন্য প্রায় ২০ দিনের শুটিংও সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর পরই শিডিউল এবং পারিশ্রমিক নিয়ে মতবিরোধ চরমে ওঠে। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে এই ধরনের শর্ত টিমওয়ার্কে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে দীপিকার ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, মাতৃত্বের পর তিনি নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যা একজন পেশাদার শিল্পীর অধিকার।
এই পুরো পরিস্থিতি বলিউডে কাজের সংস্কৃতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং, রাতভর কাজ এবং শারীরিক ক্লান্তি—এই বিষয়গুলো নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীপিকার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ বদলাতে ভূমিকা রাখতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা বাস্তবসম্মত নয়।
সাই পল্লবীর নাম সামনে আসায় দক্ষিণী ও বলিউড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে যোগসূত্র আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। ইতোমধ্যেই দক্ষিণী তারকারা বলিউডে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছেন। সাই পল্লবী যদি সত্যিই এই ছবিতে যুক্ত হন, তবে তা তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় মাইলফলক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, দীপিকা পাড়ুকোনের জায়গায় সাই পল্লবীর সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি কাস্টিং পরিবর্তনের গল্প নয়, বরং এটি বলিউডের কাজের ধারা, তারকাদের শর্ত এবং প্রযোজকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত কে থাকছেন ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিকুয়েলে, সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রি।