গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে ভয়াবহ দাবানল: ধ্বংস ঐতিহাসিক লজসহ বহু স্থাপনা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে ভয়াবহ দাবানল: ধ্বংস ঐতিহাসিক লজসহ বহু স্থাপনা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের নর্থ রিম অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের ফলে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন লজ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। দাবানলটি মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তছনছ করে দেয় পার্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আগুনের তাণ্ডবে পুড়ে গেছে দর্শনার্থী কেন্দ্র, গ্যাস স্টেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, প্রশাসনিক দপ্তর, কর্মীদের আবাসন ও ঐতিহ্যবাহী কাঠের কেবিনগুলো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য খ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের এই অংশে এমন ধ্বংসাত্মক অগ্নিকাণ্ড গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে।

প্রাথমিকভাবে এই আগুনকে নিয়ন্ত্রিত দাবানল হিসেবে শুরু করা হলেও হঠাৎই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে আগুনের দাপট শুরু হয়। আবহাওয়ার চরম তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে পার্ক কর্তৃপক্ষ, দমকল বিভাগ ও জরুরি উদ্ধার বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে পার্কের ভেতরে অবস্থানরত হাইকার, পর্যটক ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পার্কের সুপারিনটেনডেন্ট এড কেবল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, আগুনে পুরো লজ এবং পার্ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নর্থ রিম অংশে অবস্থিত এই লজটি ছিল একমাত্র অভ্যন্তরীণ আবাসিক সুবিধা, যেখানে হাজারো পর্যটক প্রতি মৌসুমে এসে থাকতেন।

দাবানলটি বৃহস্পতিবার সকালের দিকে প্রথম নজরে আসে এবং সেদিনই পার্কের পুরো নর্থ রিম এলাকা খালি করে দেওয়া হয়। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে নর্থ রিম আর খোলা হবে না। তবে সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

একইসাথে একটি বড় ধরনের পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পার্কের চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের আগুনে পুড়ে যাওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, এ কেন্দ্র থেকে ক্লোরিন গ্যাস নিঃসরণ হতে পারে, যা মানবদেহে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া ও ত্বকের জ্বালাভাব সৃষ্টি করতে পারে।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরামার্ক আশ্বাস দিয়েছে, তাদের সব কর্মী ও পার্কে অবস্থানরত অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এত বড় পরিসরের ক্ষয়ক্ষতির পুনঃস্থাপন কতটা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ হবে তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এই দাবানল শুধু একটি পার্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্পদকেই বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত