কেনিয়ার খ্রিস্টান গসপেল শিল্পী থেকে মুসলিম—ডিজে কেজের হৃদয়ছোঁয়া ধর্মান্তর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৫ বার
কেনিয়ার খ্রিস্টান গসপেল শিল্পী থেকে মুসলিম—ডিজে কেজের হৃদয়ছোঁয়া ধর্মান্তর

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কেনিয়ার সংগীতজগতে এক আবেগঘন মোড়—জনপ্রিয় গসপেল ডিজে ও সংগীতশিল্পী কেজিয়া জিরোনো, যিনি ডিজে কেজ নামে খ্যাত, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। শুধু ব্যক্তিগত কোনো ধর্মান্তর নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক যাত্রার স্বীকৃতি এবং জীবনের জটিল অধ্যায়ের অবসানে এক নবজন্ম বলেই তিনি একে বর্ণনা করছেন।

চলতি বছরের ১১ জুলাই ডিজে কেজ ইনস্টাগ্রামে (djkezzkenya) একটি ছবি পোস্ট করে তার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। ছবিতে তাকে ও তার কন্যাকে ইসলামী পোশাকে দেখা যায়। মেয়েটির হাতে রঙিন মেহেদির আলপনা, মুখে প্রশান্তির ছায়া। ছবির ক্যাপশনে লেখা, “আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আমাদের শাহাদাহ গ্রহণ করেছি। এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়ের শুরু। আমি এখন একজন মুসলিম।” এই এক বাক্যে যেন তিনি জানিয়ে দেন—সব হারিয়েও কিছু পাওয়া যায়, যদি তা হয় হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির অনুসরণ।

ইসলাম গ্রহণের পর কেজিয়া তার নতুন নাম রেখেছেন জিয়াহ, আর তার কন্যার নাম রেখেছেন লিয়ানা। এই নামগুলোও যেন এক নতুন পরিচয়ের প্রতীক, এক নতুন বিশ্বাসের সূচনা। জিয়াহর এই সিদ্ধান্ত কেনিয়া এবং আফ্রিকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে এক অনুচ্চারিত কষ্টের দীর্ঘ ইতিহাস। ডিজে কেজ শুরু করেছিলেন একজন গসপেল ডিজে হিসেবে, যারা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন। অল্প বয়সেই তিনি যুক্ত হন সেভেন্থ ডে অ্যাডভেনটিস্ট চার্চের সঙ্গে। কিন্তু তার জীবনের বাঁকে আসে নির্মম এক ট্র্যাজেডি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হলে চার্চ তাকে ‘অপবিত্র’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করে। এ সময় বন্ধুরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, সমাজ ধিক্কার দেয়। আত্মসম্মান হারানোর যন্ত্রণায় কেজ চার্চে যাওয়া বন্ধ করে দেন, ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

ধর্মে আস্থাহীন সে সময়টাতে তিনি ক্লাবে গিয়ে গান গাইতে শুরু করেন, যেখানে ধর্মের কোনো অনুমোদন নেই। ২০১৭ সাল থেকে সংগীতে ফিরে আসলেও তা ছিল অনেকটাই নির্লিপ্তভাবে। তবে ২০২০ সালে তার মধ্যে আবারও ধর্মের প্রতি আকর্ষণ জন্ম নেয় এবং তিনি গসপেল সংগীতে ফিরে আসেন। কিন্তু তার আধ্যাত্মিক খোঁজ শেষ হয়নি তখনও।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আন্তরিক পোস্টে জিয়াহ লেখেন, “ঈশ্বরের সঙ্গে আমার পথচলা চার্চে শুরু হয়নি এবং চার্চেই শেষ হয়নি। আমি বছরের পর বছর ধরে আধ্যাত্মিকতার পথ খুঁজেছি। আমার ইসলামের পথে চলা আকস্মিক নয়—এটা পবিত্র, এটা সৎ, এবং এটা আমার।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বাস কোনো বাক্স নয়, এটা একটা আহ্বান। আর আমি আজ সেই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি।”

ডিজে কেজের ইসলাম গ্রহণ সামাজিক মাধ্যমে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছে তার ভক্ত-অনুসারীরা। অনেকে তাকে অভিনন্দন ও দোয়া জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, কেউ কেউ বলেছেন, “আপনার সাহসিকতা ও সততা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।”

জিয়াহর এই পথচলা শুধু একজন ব্যক্তির ধর্মান্তর নয়, বরং তা বহু মানুষের সামনে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসার দরজা খুলে দেয়। বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের সন্ধানে একজন নারী যেভাবে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন ইসলামের আলোয়, তা কেবল ধর্ম নয়—এক মানবিক জয়গাথাও বটে। এই রূপান্তর যেন প্রমাণ করে, হারানো বিশ্বাস ফিরে পেতে দেরি হতে পারে, কিন্তু তা কখনো অসম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত