প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
শ্রীলঙ্কা সফরের শেষ বাঁকে এসে এখন একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের—টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে অন্তত একটি ট্রফি হাতে নিয়ে দেশে ফেরা। টেস্ট সিরিজে আক্ষেপ, ওয়ানডে সিরিজে সামান্য ব্যবধানে হার, কিন্তু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখনো জয়ের সম্ভাবনা বেঁচে আছে। সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দিতে কলম্বোতে নামছে লিটন দাসের দল।
প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে সিরিজের শুরুটা হতাশাজনক হলেও, রোববার ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। রানের ব্যবধানে এটি ছিল তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়—যা দলটিকে ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসের জায়গায়। ওই ম্যাচে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত ছিল টাইগাররা।
এই ম্যাচে দলের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেন শামীম হোসেন। ২৭ বলে ৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পাশাপাশি তার অসাধারণ এক থ্রোতে সাজঘরে ফেরেন শ্রীলঙ্কার অন্যতম ভরসার ব্যাটার কুশল মেন্ডিস। ম্যাচের পর শামীম জানান, “অবশ্যই সিরিজ জিততে চাই। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।”
সমালোচিত অধিনায়ক লিটন দাস দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার পর তাঁকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটির জবাব তিনি দিয়েছেন ব্যাটেই। হয়েছেন ম্যাচসেরা। তাঁর দৃঢ়তা ও মনোভাব পুরো দলের আত্মবিশ্বাসে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তবে সফরটা মোটেও সহজ ছিল না। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটে খেলতে হয়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে। ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হলেও শেষ ম্যাচের আগে মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছে দল। আর এই ম্যাচ শেষে মাত্র দুইদিনের বিরতিতে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে, যে কারণে এই জয়ের গুরুত্ব দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফ, বিশ্লেষক ও সিনিয়র খেলোয়াড়রা মনে করছেন, তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিততে পারলে শুধু সিরিজ নয়, একটি মানসিক জয়ও হবে টাইগারদের জন্য। দেশে ফেরার সময় তাদের সঙ্গে থাকবে একটি রূপালি মুহূর্ত, যা সামনের চ্যালেঞ্জের আগে দলকে উজ্জীবিত করবে।
এই অবস্থায় ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের চোখ বুধবারের ম্যাচে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ কি পারবে সেই কাঙ্ক্ষিত সিরিজ জয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে? সেটার উত্তর মিলবে কালকের মাঠের লড়াইয়ে। তবে দলজুড়ে এখন একটাই আওয়াজ—“সিরিজ জিতেই ফিরতে চাই।”