চেলসির বিশ্বজয়ের বরপুত্র কোল পালমার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৭২ বার
চেলসির বিশ্বজয়ের বরপুত্র কোল পালমার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চেলসি ফুটবল ক্লাবের ইতিহাসে আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যোগ হলো, আর সেই উজ্জ্বলতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন তরুণ ইংলিশ ফরোয়ার্ড কোল পালমার। ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) বিধ্বস্ত করে ৩-০ গোলে জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন এই মাত্র তেইশ বছর বয়সী ফুটবলারটি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই অবিশ্বাস্য জয়ে পালমার একাই করেছেন জোড়া গোল, অপরটি করিয়েছেন সতীর্থ জোয়াও পেদ্রিকে দিয়ে।

ম্যাচের শুরুর আধঘণ্টার মধ্যেই এমন দাপট, যেখানে পিএসজির মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ে ঠাসা দলও মাথা তুলতে পারেনি। ম্যাচ চলাকালে ২৯ ডিগ্রি গরমে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভিআইপি গ্যালারিতে টাই আলগা করে বসে ছিলেন, তখন মাঠে ছিলেন পুরোপুরি ঠান্ডা মাথার কোল পালমার—দ্যাখিয়ে দিয়েছেন, বড় মঞ্চে কেমন করে জ্বলে উঠতে হয়।

এই জয়ের মাহাত্ম্য শুধুই ট্রফি জয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা এসে ঠেকে ইংলিশ ক্লাবটির আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। ইউরোপিয়ান ফুটবলে একটি সময় যখন চেলসির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ছিল, ঠিক তখনই পালমারের মতো এক বিস্ময় প্রতিভার হাত ধরে ক্লাবটি নিজেদের প্রমাণ করে দিলো। ম্যাচ শুরুর ৯ মিনিটেই চেলসির রক্ষণ ও মধ্যমাঠের একত্রে করা চাপ এবং প্রেশার ফুটবল পিএসজির মতো শক্তিশালী দলকেও এলোমেলো করে দেয়। সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়।

পিএসজির ছয়টি গোলমুখী শট, ৬৬ শতাংশ বল দখলের পরও তারা চেলসির জালে বল প্রবেশ করাতে পারেনি। চেলসির স্প্যানিশ গোলরক্ষক রবার্তো সানচেজ একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভে তুলে ধরেন নিজেকে, এবং এদিন তিনিও ছিলেন অন্যতম নায়ক।

এই ম্যাচের উত্তাপ শুধু ফুটবলীয় কৌশলেই নয়, রেশ ছড়িয়েছে ম্যাচ-পরবর্তী বিতর্কেও। পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পেদ্রোর মুখে হালকা ঘুষি মেরে বিতর্ক সৃষ্টি করেন, যদিও পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাষায়, “খেলোয়াড়দের আলাদা করতে গিয়েছিলাম, ছেলেটা একটু বাড়াবাড়ি করছিল।” কিন্তু ম্যাচ শেষে তার চোখেমুখে পরাজয়ের বেদনার চেয়ে ক্ষোভই ছিল বেশি। এবং তিনিও পরাজয় স্বীকার না করে বলেন, “আমরা হেরে যাইনি, রানার্সআপ হয়েছি। হেরে তারা যায়, যারা হাল ছেড়ে দেয়।”

চেলসির জন্য এই শিরোপা আগেও এসেছে—২০২১ সালের পর এবার ২০২৫-এ। তবে এবারের জয় বিশেষ, কারণ ৩২টি দলের অংশগ্রহণে প্রথমবার আয়োজিত বিশাল পরিসরের এই ক্লাব বিশ্বকাপে তারা একে একে হারিয়েছে বায়ার্ন, রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির মতো দলকে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই দুর্দান্ত সাফল্যের পর কি এবার চেলসি প্রিমিয়ার লিগেও তাদের দীর্ঘ আট বছরের খরা ঘোচাতে পারবে? কোল পালমার, পেদ্রো, সানচেজ, কুকুরেয়া, গুস্তোদের নিয়ে গড়া এই নতুন চেলসি দল কি পারবে ইংলিশ ফুটবলের সিংহাসনে ফিরতে?

প্রসঙ্গত, মাত্র দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ব্রিজে আসেন কোল পালমার। সেখানে তিন বছরে মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। অথচ চেলসিতে এসে দুই মৌসুমে ৭০ ম্যাচে ৩৭ গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন—যারা তাকে এক সময় উপেক্ষা করেছিল, তাদের জন্য আজ উত্তর দিচ্ছেন মাঠেই।

এই বিশ্বজয়ে শুধু ট্রফি নয়, এক নতুন বিশ্বাস ফিরে পেল চেলসি। আর সেই বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠলেন একজনই—কোল পালমার, যিনি এখন ক্লাবটির নতুন ‘বরপুত্র’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত