মামদানি জয়ে কাঁপছে নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট: উচ্চবিত্তের মধ্যে আশঙ্কা, বিনিয়োগে দ্বিধা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৩ বার
মামদানি জয়ে কাঁপছে নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট: উচ্চবিত্তের মধ্যে আশঙ্কা, বিনিয়োগে দ্বিধা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জোহরান মামদানি’র চমকপ্রদ বিজয় একদিকে যেমন অনেক সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদের সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে তা শহরের বিলাসবহুল আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শহরের শাসনক্ষমতায় আসা মামদানি, ধনীদের ওপর কর আরোপ এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো প্রস্তাবনা নিয়ে নিউইয়র্কের অভিজাত শ্রেণির চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন।

ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক এই রাজনীতিকের বয়স মাত্র ৩৩। গত জুনের শেষ দিকে নিউইয়র্ক মেয়র পদে প্রাইমারিতে জয়ী হওয়ার পর থেকেই শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে এক ধরনের অদৃশ্য ‘পালানোর প্রস্তুতি’। ফেসবুক গ্রুপ, রিয়েল এস্টেট চ্যানেল এবং স্থানীয় কিছু ব্যবসায়িক মহলে শোনা যাচ্ছে, মামদানির নীতির ভয়ে উচ্চ আয়ের বাসিন্দারা নিউইয়র্ক ত্যাগ করে অন্যত্র যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন—বিশেষ করে করহীন এবং ব্যবসাবান্ধব ভাবমূর্তির ফ্লোরিডা তাদের নতুন গন্তব্য হতে পারে।

ম্যানহাটানভিত্তিক অভিজ্ঞ আবাসন ব্রোকার জে বাত্রা সিএনএনকে জানান, তাঁর দুই ধনী ক্লায়েন্ট ইতোমধ্যে তাদের বহু মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছেন। কারণ, তারা মনে করছেন মামদানির রাজনৈতিক আদর্শ এবং প্রস্তাবিত সংস্কার কর্মসূচি নিউইয়র্কের উচ্চবিত্ত শ্রেণির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ব্রোকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধনীরা এখন বাড়ি কিনতে দ্বিধান্বিত, এবং কেউ কেউ সম্পূর্ণ শহর ছাড়ার কথাও ভাবছেন।

মামদানি যেসব সংস্কার প্রস্তাব করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর ২ শতাংশ কর আরোপ, ভাড়া স্থিরকরণ, পাবলিক হাউজিং নির্মাণ এবং রিয়েল এস্টেট বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি। যদিও তিনি এখনো মেয়রের পদে বসেননি এবং এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত, তবুও সম্ভাব্য পরিবর্তনের আশঙ্কায় অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছেন।

নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডের বাসিন্দাদের মধ্যে এমন ভীতি আরও প্রকট। সিএনএনের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের ফেসবুক গ্রুপে অনানুষ্ঠানিকভাবে শহর ছাড়ার পরিকল্পনা শেয়ার করছেন। তাদের ধারণা, মামদানির মেয়র হওয়া মানেই একটি এমন প্রশাসনিক ধারা, যেখানে উচ্চবিত্তদের ওপর নীতি নির্ধারণ হবে ‘ধনীদের শাস্তি’ নীতিতে। যদিও ইতিহাস বলে, রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে স্থানান্তরের হুমকি অনেক সময়ই কথার ফুলঝুড়ি হয়।

অবশ্য, মামদানির আবির্ভাব এসেছে এমন এক সময়ে, যখন নিউইয়র্ক সিটির আবাসন খাত এক চরম দ্বন্দ্বে জর্জরিত। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে শহরের গড় ভাড়া ৩ হাজার ৩৯৭ ডলার ছুঁয়েছে—যা ২০২০ সালের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এই বাস্তবতায় মামদানির নীতির পক্ষে জনসমর্থনও কম নয়। তার জনপ্রিয়তা সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত অংশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। অনেকেই মনে করেন, তিনি শহরের দীর্ঘদিনের বৈষম্য এবং হাউজিং সংকট দূর করতে সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

তবে বিনিয়োগকারীদের একাংশ বলছে, চাহিদা থাকলেও হঠাৎ করে ভাড়া ‘স্থির’ করে দেওয়া হলে আয় কমে যাবে, ছোট অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে যেতে পারে। ফলে আবাসন খাতের অবস্থা আরও জটিল হবে।

নিউইয়র্ক এখন এক নতুন রাজনৈতিক বাঁকে দাঁড়িয়ে। মামদানির বিজয়ে ক্ষুব্ধ উচ্চবিত্ত আর আশাবাদী শ্রমজীবী মানুষের এই দ্বান্দ্বিক চিত্র শহরটির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে। শহর ছেড়ে যাওয়া না যাওয়া ভবিষ্যতের বিষয়, কিন্তু আপাতত নিউইয়র্কের হাউজিং মার্কেট যে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে—তা বলাই বাহুল্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত