প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ক্রোয়াট ফুটবল ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নামগুলোর অন্যতম লুকা মদ্রিচ তার দীর্ঘ ও গৌরবময় রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়ের ইতি টেনে পাড়ি জমালেন ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানে। ৩৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে এক বছরের চুক্তিতে দলে নিয়েছে ইতালির অন্যতম সফল ক্লাবটি। সোমবার (১৪ জুলাই) এক ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে এসি মিলান কর্তৃপক্ষ।
মদ্রিচকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানান্তর গুঞ্জন ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবল মহলে। ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে রিয়ালের হারের ম্যাচটি যে তার শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে, তা তখনই আন্দাজ করেছিলেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত সেই অনুমানই সত্যি হলো।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত প্রথম বার্তায় এসি মিলানে আসার অনুভূতি জানিয়ে মদ্রিচ বলেন, “এখানে এসে আমি খুবই খুশি। এটি আমার ক্যারিয়ারের নতুন একটি অধ্যায়। এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি মুখিয়ে আছি। আমাদের সামনে কথা বলার অনেক সময় থাকবে।” এই মন্তব্যে যেমন আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, তেমনি রোমাঞ্চও দেখা গেছে তার চোখে-মুখে।
২০১২ সালে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন মদ্রিচ। শুরুতে কিছুটা কঠিন সময় পেরোলেও দ্রুতই ক্লাবটির মিডফিল্ডের হৃদপিণ্ডে পরিণত হন তিনি। তাঁর শৈল্পিক পাসিং, বল কন্ট্রোল ও খেলার গভীরতা বোঝার ক্ষমতা তাকে রিয়াল মাদ্রিদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে রূপ দেয়।
১৩ বছরের রিয়াল অধ্যায়ে মদ্রিচ মোট ২৮টি ট্রফি জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৪টি লা লিগা শিরোপা, ৫টি ক্লাব বিশ্বকাপ, ২টি কোপা দেল রে, ৫টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও আরও ৬টি স্প্যানিশ সুপার কাপ। শুধু ট্রফির সংখ্যাই নয়, এই সময়ে তিনি ছিলেন দলের চালিকাশক্তি, মাঠের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান কারিগর।
২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে আধিপত্যশীল মেসি-রোনালদোর যুগে ভিন্ন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন মদ্রিচ। ওই বছর রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলে এনে দেশের ফুটবল ইতিহাসে সোনালি এক অধ্যায় রচনা করেছিলেন তিনি।
এসি মিলানে তার আগমনকে ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, বয়স শুধুই একটি সংখ্যা—পারফরম্যান্স ও মানসিক দৃঢ়তা যার যথার্থ উদাহরণ তিনি নিজেই।
তবে মিলানে তার সামনে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সিরি আ-তে মিলানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইতিবাচক হলেও মদ্রিচের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব হয়তো দলটিকে আরও বেশি ধারালো করে তুলবে। ক্লাবটির মিডফিল্ডকে আরও সুশৃঙ্খল ও সৃষ্টিশীল করে গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন এই ক্রোয়াট জাদুকরের হাতে।
রিয়ালের সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন ভালোবাসার নাম, শ্রদ্ধার প্রতীক। নতুন ক্লাবেও সেই ভালোবাসা তিনি আদায় করে নিতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে লুকা মদ্রিচের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, এই সত্য নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই।