প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে চলমান অপপ্রচার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গাজীপুর মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের শিববাড়ি বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শিববাড়ি মোড় ঘুরে সদর মেট্রো থানা রোডের মুক্তমঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়। পুরো মিছিলটি ছিল স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত, যা বিএনপির প্রতি সাধারণ জনগণের সমর্থনেরই প্রতিচ্ছবি।
বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু। তার নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।
মিছিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হান্নান মিয়া হান্নু বলেন, “তারেক রহমান দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র আশার আলো। দৃশ্য ও অদৃশ্য দেশবিরোধী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে তাঁকে ঘিরে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে, তা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যেসব অপচেষ্টা চলছে, তা একদিকে যেমন গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত, অন্যদিকে তা দেশের স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে নেমেছে একটি গোপন সংগঠন, যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে এখন মিথ্যাচার ও সামাজিক বিভ্রান্তির আশ্রয় নিচ্ছে। মিটফোর্ডে পাশবিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এবং তার দায় রাজনৈতিকভাবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা একটি সুস্পষ্ট রাজনীতিকরণ এবং গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত রাখার অপচেষ্টা।”
এই সময় তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকব। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের লড়াই থেকে একচুলও সরে আসব না। দেশবাসী জানে, তারেক রহমানকে টার্গেট করে সরকার যে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।”
বিক্ষোভে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল খন্দকার সুমন, কাউলতিয়া মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল সরকার, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক হাজী লিয়াকত হোসেন, যুবদল নেতা আসলাম মিয়া, লিয়াকত হোসেন লিটন, মাহবুব আলম মাসুম, টিটু, সোহেল, তরিকা আল মামুন, ফখরুল আলম রনি, মাহফুজুর রহমান রনি, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন বেপারী, মহানগর জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম সাদ্দাম, সদর মেট্রো থানা তাঁতী দলের আহ্বায়ক শহিদুল আপন, শ্রমিক দলের আলমগীর হোসেন, কবির হোসেন কবু এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিক্ষোভ শুধু গাজীপুরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারাদেশে বিএনপির কর্মীদের মধ্যেও একটি সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচার ও অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। তারা বলছেন, রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে থাকলে গাজীপুরের এই বিক্ষোভ আরও বৃহৎ কর্মসূচির আভাস দিচ্ছে।
গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাধীনতার প্রশ্নে দলীয় অবস্থান আরও কঠোরভাবে তুলে ধরতে প্রস্তুত বিএনপি—এটাই ছিল এই মিছিল ও সমাবেশের মূল বার্তা।