প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিতে চাচ্ছে না— এমন গুঞ্জন যখন উঠেছে, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা। এমন অবস্থায় দৃঢ় মনোভাব নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, “ঢাকাতেই হবে এসিসির সভা। আমরা প্রস্তুত।”
চলতি মাসের ২৩ জুলাই একটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ এবং পরদিন ২৪ জুলাই মূল এজিএম আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। এরইমধ্যে অংশগ্রহণকারী সকল দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি চলছে পুরোপুরি উৎসবমুখর পরিবেশে। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি সভাপতি বলেন, “এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) আমাদের ক্রিকেট অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক সংগঠন। এর আগে আমরা এসিসির কোনো বড় পরিসরের সভার আয়োজন করিনি। এবার সেই সুযোগ এসেছে, এবং আমরা এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফল করতে চাই।”
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ওঠে, ঢাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকায় এসিসির এই সভাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরের চিন্তা করা হচ্ছে। তবে বিসিবি সভাপতি সেই গুঞ্জন সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে জানান, “কোনো সভা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নেই। সব কিছু পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলছে।”
ভারতের প্রতিনিধিরা সরাসরি সভায় উপস্থিত থাকবেন কিনা— এ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু বিসিবি প্রধান আশাবাদী, ভারতের প্রতিনিধি দল স্বশরীরে ঢাকায় উপস্থিত থাকবে। আর যদি তা সম্ভব না-ও হয়, তবুও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বর্তমানে এসিসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনিসহ অন্যান্য সদস্যরা ঢাকায় সরাসরি অংশ নেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
এই সভার গুরুত্ব কেবল প্রশাসনিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, এই সভা থেকেই আসন্ন এশিয়া কাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য টি-২০ ফরম্যাটের এই আসর আয়োজন করবে ভারত, আর এটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে। ঠিক কখন টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়াবে, কোন ভেন্যুতে খেলা হবে, দলগুলোর গ্রুপিং কেমন হবে— এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ঢাকার সভাতেই।
বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ সূচির ওপর। এশিয়া কাপের মতো উচ্চ পর্যায়ের আসরে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি হওয়া সবসময়ই বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কূটনৈতিক টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও, খেলাধুলা যেন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যায়— সেটিই প্রত্যাশা করছ এসিসির সদস্যরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপত্তা এবং আতিথেয়তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সভা সফলভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনিক বিভাগ এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে।
এই সভার মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করতে চায় যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে তারা কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই নয়, বরং আয়োজনেও প্রস্তুত ও দক্ষ। রাজনৈতিক বাস্তবতা থাকলেও, খেলাধুলা এবং কূটনৈতিক সৌহার্দ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে সভাটি যেন নির্দ্বিধায় ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হয়—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ক্রীড়ামোদীদের।