প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে পাকিস্তান দলের প্রস্তুতির কথাই যেন বলে দিচ্ছে—তারা প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না। বরং ঘরের মাঠে লিটন দাসের নেতৃত্বে গড়া বাংলাদেশ দল যে কঠিন প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছেন সফরকারী দলের অধিনায়ক সালমান আলী আগা।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ঘোষণার পর মঙ্গলবার করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আগা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে তাদের নিজেদের মাটিতে তারা সবসময়ই একটি শক্ত প্রতিপক্ষ। আমাদের প্রস্তুতিটাও সেই অনুযায়ী ছিল, কারণ আমরা জানি এখানে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।”
আজ, ১৬ জুলাই পাকিস্তান দল ঢাকায় পৌঁছাবে। আগামী ২০, ২২ ও ২৪ জুলাই তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এখনও বাংলাদেশ দল ঘোষণা না করলেও পাকিস্তান দল ইতোমধ্যেই তাদের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।
দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার—বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও শাহিন শাহ আফ্রিদি—এ সিরিজে অনুপস্থিত। শাদাব খান ও হারিস রউফ ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে নেই। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন সালমান আগা। তিনি জানান, “দল গঠনে দীর্ঘমেয়াদী ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছি আমরা। ২৫ জনের একটি পুল গঠন করা হয়েছে, যাদের নিয়েই বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রস্তুতি চলবে। সিনিয়র খেলোয়াড়রা এই পুলেরই অংশ, তারা দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনার বাইরে চলে যায়নি।”
এই সিরিজে সুযোগ পাওয়া একাধিক তরুণ খেলোয়াড় যেমন: বাহাতি পেসার সালমান মির্জা, আহমেদ দানিয়াল কিংবা সুফিয়ান মোকিম ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন ঘরোয়া পারফরম্যান্সে। তাদের সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সফরে নতুন ছন্দ খুঁজে পেতে চায় পাকিস্তান।
এদিকে দল ঘোষণার পর পাকিস্তানে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়ার পেছনে কি কেবল বিশ্রাম নাকি কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ছায়া লুকিয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে সালমান আগা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “আমরা কাউকে বাদ দিইনি, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি স্কোয়াড তৈরি করা, যারা যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রতিস্থাপনের ক্ষমতা রাখে।”
সিরিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বারবারই তুলে ধরেছেন আগা। বিশেষ করে নিজেদের মাটিতে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং পারফরম্যান্স, সাকিব-লিটনদের অভিজ্ঞতা ও দলের নতুনদের আগ্রাসী মানসিকতা পাকিস্তান দলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ এই সিরিজের মাধ্যমে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে চায় আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে, যার গুরুত্বও সালমান আগা অস্বীকার করেননি।
এদিকে পাকিস্তানের দলে বেশ কিছু তরুণ মুখ সুযোগ পেয়েছে, যারা নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে। দলের মধ্যে আছেন অভিজ্ঞ ফখর জামান ও খুশদিল শাহ, যারা ব্যাটিংয়ের ভার কাঁধে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেস আক্রমণে আব্বাস আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফের দিকেই তাকিয়ে থাকবে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশের ক্রিকেটবোর্ড (বিসিবি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, লিটন দাসের অধীনেই দল নামবে মাঠে। এই সিরিজের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দলই পরবর্তী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চায়। ফলে তিনটি ম্যাচই হতে যাচ্ছে উত্তেজনাপূর্ণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানের সফরকারী দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নেওয়াজ, হোসাইন তালাত, খুশদিল শাহ, আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নেওয়াজ, শাহিবজাদা ফারহান, সায়েম আইয়ুব, সালমান মির্জা ও সুফিয়ান মোকিম।
এই দলটি যেমন তরুণদের ঝাঁক, তেমনি ভবিষ্যতের একটি রূপরেখা। এখন দেখার বিষয়—বাংলাদেশের ঘরের মাঠে তারা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি করতে পারে, আর টাইগাররা কতটা প্রস্তুত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।