প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতির ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণে আগামীকাল ১৭ জুলাই দেশজুড়ে আয়োজন করা হচ্ছে এক অনন্য কর্মসূচি—‘জুলাইয়ের গল্প বলা’। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাস্তব জীবনে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের মুখ থেকে উঠে আসবে সেই দিনগুলোর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও বীরত্বগাঁথা।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হবে ‘জুলাই স্মরণ’ অনুষ্ঠান। সেখানে গৌরবময় ওই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেবেন ‘টিচার্স ইন জুলাই’ শীর্ষক সেগমেন্টে, যেখানে তাঁরা বিশ্লেষণ করবেন জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা।
এছাড়া, অনুষ্ঠানমালায় বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আবরার ফাহাদ’, যা নতুন প্রজন্মকে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগের গভীরতা অনুধাবন করতে সহায়তা করবে।
জুলাই পুনর্জাগরণ উৎসবের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানমালা ধারণ করে একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হবে। ১৭ জুলাই উপলক্ষে একটি থিম সং ‘শিকল-পরা ছল’-কে কেন্দ্র করে নির্মিত ভিডিও প্রকাশ পাবে, যা স্মরণ ও চেতনার এক গাঢ় আবেগ তৈরি করবে দর্শকদের মাঝে। একইসঙ্গে প্রচারিত হবে ‘একটি শহিদ পরিবারের সাক্ষ্য’ ডকুমেন্টারির চতুর্থ পর্ব এবং একজন জীবিত জুলাই যোদ্ধার স্মৃতিচারণভিত্তিক ভিডিও।
সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণার অংশ হিসেবে, দেশের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিজস্ব ফেইসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে। শুধু তাই নয়, দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহকের কাছে ভিডিও লিঙ্ক এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের প্রতিটি নাগরিক এই ইতিহাসভিত্তিক উপস্থাপনাগুলো দেখতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থান এবং তার ধারাবাহিকতায় জন্ম নেওয়া নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা দেশকে এক ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করছে। সেই সময়ের শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের সংগ্রাম ও কোটি জনতার অংশগ্রহণকে ঘিরেই গড়ে উঠছে এই জাতীয় স্মরণানুষ্ঠান।
আগামীকালের অনুষ্ঠানটি শুধু স্মরণ নয়, এটি হবে প্রেরণা জাগানিয়া এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের পুনঃপাঠ, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখবে গণতন্ত্র, ন্যায় ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ ছিল।
এই আয়োজনটি নিছক এক দিনের অনুষ্ঠান নয়, বরং জুলাই চেতনার ধারাবাহিক এক সংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ, যা নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে পথ দেখাতে চায়।