ওমান সাগরে ২০ লাখ লিটার চোরাই তেলসহ বিদেশি ট্যাংকার জব্দ করল ইরান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৮ বার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ওমান সাগরের সীমান্তবর্তী জলসীমায় বড় ধরনের জ্বালানি চোরাচালান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে একটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্যাংকারটি প্রায় ২০ লাখ লিটার চোরাই তেল বহন করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মোজতবা গাহরেমানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশটির সমুদ্রসীমায় সন্দেহভাজন জ্বালানি চোরাচালান কার্যক্রমের উপর কড়া নজরদারি চলছিল। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল ওমান সাগরের নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্যাংকারটি আটক করে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা গেছে, জাহাজটির প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সম্পূর্ণ ছিল না, যা জ্বালানি চোরাচালানের সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

তবে আটক ট্যাংকারটির কোন দেশের মালিকানাধীন কিংবা কোন বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলে গাহরেমানি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাহাজটিতে থাকা মোট ১৭ জন নাবিক ও কর্মকর্তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণ ইরানের জাস্ক শহরে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আটকৃতদের বিরুদ্ধে চোরাচালান বিরোধী আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আটক ট্যাংকারে ঠিক কতটুকু তেল আছে, তা নির্ভুলভাবে নিশ্চিত করতে জ্বালানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ট্যাংকারের সকল নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহ ও তদন্ত শেষে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন হরমুজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি।

প্রসঙ্গত, ইরান বারবার তাদের সমুদ্রসীমা দিয়ে চোরাই জ্বালানি পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে। অতীতেও ইরানি বাহিনী একাধিকবার ওমান সাগর ও পার্শ্ববর্তী জলসীমায় জ্বালানি বহনকারী বিদেশি ট্যাংকার আটক করেছে। তবে এবার প্রায় ২০ লাখ লিটার তেলসহ ট্যাংকার জব্দের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ট্যাংকারের মালিকানা, জ্বালানির প্রকৃত উৎস ও গন্তব্যের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করবে ইরানি কর্তৃপক্ষ—এমন আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে, বিশেষ করে সামুদ্রিক রুটে জ্বালানি সরবরাহের বৈধতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত