ভিনিসিয়ুসের ‘সুপার কন্ট্রাক্ট’ দাবি: এমবাপ্পের থেকেও বেশি পারিশ্রমিক চান ব্রাজিলিয়ান তরকা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০ বার
ভিনিসিয়ুসের ‘সুপার কন্ট্রাক্ট’ দাবি: এমবাপ্পের থেকেও বেশি পারিশ্রমিক চান ব্রাজিলিয়ান তরকা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠ কাঁপালেও, তার ক্লাব-ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। চুক্তি নবায়ন নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, সেটি এখন কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে। মূল কারণ—এই ব্রাজিলিয়ান তারকার অতিরিক্ত আর্থিক চাহিদা। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হতে চান—এমনকি সদ্য দলে আসা কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও ছাড়িয়ে যেতে চান।

স্প্যানিশ ক্রীড়ামাধ্যম ‘স্পোর্ট’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভিনিসিয়ুস শুধু এমবাপ্পের সমান নয়, বরং তার থেকেও বেশি বেতনের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি রিয়াল কর্তৃপক্ষকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। কারণ, ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট একটি বেতন কাঠামোর মধ্যে থেকেই ক্লাব পরিচালনা করে আসছেন। সাধারণত কোনো খেলোয়াড়কে ১৫ মিলিয়ন ইউরোর বেশি বেতন দেওয়া হয় না। যদিও এমবাপ্পের জন্য সেই সীমা ভেঙে ২০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের দাবি তার চেয়েও বড়—a ‘সুপার কন্ট্রাক্ট’।

এই চুক্তিতে থাকবে মোটা অঙ্কের সাইনিং বোনাস, উচ্চ গ্যারান্টিসহ এমন অর্থনৈতিক সুবিধা, যা তাকে রিয়ালের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়ে পরিণত করবে। ভিনির যুক্তি, ক্লাবের হয়ে নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রমাণ করেছেন, ক্লাবের সাফল্যে তার ভূমিকা এমবাপ্পের থেকে কোনও অংশে কম নয়—বরং অনেক ক্ষেত্রেই বেশি। তাই তিনি মর্যাদা ও পারিশ্রমিকে সমতা চান।

কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে দেখছে ভিন্ন চোখে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, একবার যদি বেতনের এই সীমারেখা ভাঙা হয়, তাহলে অন্যান্য তারকারাও একই রকম দাবি নিয়ে হাজির হবেন। তখন পুরো বেতন কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা আর্থিক দিক থেকে ক্লাব পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। আপাতত কোনো সমাধানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি ভিনিসিয়ুস তার দাবিতে অনড় থাকেন, তাহলে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ২০২৬ সালের আগেই বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করবে। কারণ এখনো তার সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি বাকি থাকায়, ক্লাব চাইলে ভালো ট্রান্সফার ফি আদায় করতে পারবে। কিন্তু সময় পার হলে ২০২৬ সালে বিনা পারিশ্রমিকে তাকে হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

রিয়াল সমর্থকদের একাংশও এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভক্ত। কেউ কেউ ভিনিসিয়ুসের প্রতি সহানুভূতিশীল, কারণ ক্লাবের সাম্প্রতিক সাফল্যে তার অবদান অসামান্য। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে ক্লাবের ঐতিহ্য ও নীতির উপরে রাখা অনুচিত।

এই মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদ এক জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন—একদিকে দলের তরুণ ও প্রতিভাবান তারকার দাবি, অন্যদিকে ক্লাবের অর্থনৈতিক নীতিমালার শৃঙ্খলা। সামনে দিনগুলোতে এই দ্বন্দ্ব কীভাবে মীমাংসা হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত