শ্রীলঙ্কার মাটিতে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার
শ্রীলঙ্কার মাটিতে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শ্রীলঙ্কা সফরের শুরুটা কিছুটা হতাশার হলেও শেষটা রাঙাতে চায় বাংলাদেশ। লাল-সবুজের প্রতিনিধি দল এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মুখোমুখি। সফরের শুরুতে একমাত্র টেস্ট ড্র করলেও পরের ম্যাচে হেরে সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে সিরিজ হাতছাড়া করে টাইগাররা। তবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সেই দলটি এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফয়সালা করতে যাচ্ছে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে, যেখানে জয় মানেই প্রথমবারের মতো লঙ্কানদের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক অর্জন।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করে বাংলাদেশ। ৮৩ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় টাইগাররা, যা লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে রানের দিক থেকে সর্ববৃহৎ জয়। এই জয়ে যেমন সিরিজে সমতা ফিরেছে, তেমনি আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে টাইগাররা। শামীম হোসেনের ভাষায়, “দ্বিতীয় ম্যাচের জয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই জয় আমাদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সিরিজ জয়ের ভালো সুযোগ আছে এবং আমরা জানি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে।”

তবে দল গঠনে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে। চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়দের অবস্থার কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ। নাইম শেখ, তানজিম হাসান সাকিব এবং তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে মাঠে নামেন জাকের আলী অনিক, শরিফুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর রহমান। পরিবর্তিত একাদশ সাফল্য এনে দেয়, কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে আরও কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সহকারী কোচ সালাহউদ্দিন। বিশেষ করে ইনজুরি থেকে ফেরা পেসারদের নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, “টিমের উইনিং কম্বিনেশন আমরা ভাঙতে চাই না। কিন্তু খেলোয়াড়দের ইনজুরি এবং ওয়ার্কলোড আমাদের বড় একটি বিবেচ্য বিষয়। তাসকিন যেমন বড় ইনজুরি থেকে ফিরেছে, ওকে টানা খেলানো গেলে আরও বড় বিপদ হতে পারে। আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই খেলোয়াড়দের সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হয়।”

তবে দলের শক্তি বাড়াতে শেষ ম্যাচে দলে জায়গা করে নিতে পারেন শেখ মেহেদী। এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের এখনও মাঠে নামা হয়নি এই সিরিজে। এছাড়া তাসকিন আহমেদের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে, যদিও তা নির্ভর করবে ম্যাচপূর্ব ফিটনেস ও পরিস্থিতির ওপর।

রানাসিংহ প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি শুধু একটি সিরিজের ফয়সালাই করবে না, বরং এটি হয়ে উঠেছে সম্মান পুনরুদ্ধার ও আত্মপ্রতিষ্ঠার লড়াই। কারণ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের কখনও কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নেই। এর আগে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছে, যার একমাত্র ড্র হয়েছিল ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায়—এটাই এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা অর্জন। সব মিলিয়ে ১৯টি ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৭টি, বাকি ১২টিতে হার।

এই সফরের শুরুটা যেখানে হতাশাজনক ছিল, সেখানে জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে সেটি হবে নতুন আত্মবিশ্বাসের সূচনা। এই ম্যাচেই নির্ধারণ হবে, শ্রীলঙ্কা সফরটা বাংলাদেশ দলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে নাকি ভোলার মতো হতাশা হয়ে রয়ে যাবে। ফাইনালের মর্যাদা পাওয়া এই ম্যাচে টাইগারদের কাছে আজ শুধু একটি জয় নয়, একটি নতুন ইতিহাসও অপেক্ষা করছে।

শ্রীলঙ্কার মাঠে নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়, দীর্ঘ সফরের বিজয়ী সমাপ্তি এবং দলের আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের জন্য আজকের ম্যাচটাই হয়ে উঠেছে ‘সব বা কিছুই নয়’ লড়াই।
শেষটা ভালো করার লড়াইয়ে এখন সময় বাংলাদেশের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত