চীন-ভারত-ব্রাজিলকে হুঁশিয়ারি, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে: ন্যাটো প্রধান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৮ বার
চীন-ভারত-ব্রাজিলকে হুঁশিয়ারি, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে: ন্যাটো প্রধান

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উত্তর আটলান্টিক জোটের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুট। বুধবার এক জোরালো বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগে সহায়তা না করলে ব্রাজিল, চীন ও ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতে পারে।

ওয়াশিংটনে এক উচ্চপর্যায়ের কংগ্রেশনাল বৈঠকে মার্ক রুট বলেন, “এই তিনটি দেশের—বিশেষ করে চীন, ভারত ও ব্রাজিল—উচিৎ এখনই রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা। কারণ এই সম্পর্ক দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে বাধ্য হবে, যা তাদের নিজ নিজ অর্থনীতিতে বিপুল নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

রুট আরও বলেন, “যদি আপনি বেইজিংয়ে থাকেন, অথবা দিল্লিতে কিংবা ব্রাসিলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হন, তাহলে এখনই সময় ভেবে দেখার—আপনি কোন দিকে দাঁড়াবেন। আমার পরামর্শ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করুন এবং তাকে বলুন যেন তিনি শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব সহকারে অংশগ্রহণ করেন। অন্যথায় পরিস্থিতি তাদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।”

এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন এবং ইউক্রেনে নতুন অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর অঙ্গীকার করেছেন। গত সোমবার ট্রাম্প ও রুটের মধ্যে এক বৈঠকে এসব বিষয়ে মৌলিক ঐক্য গঠিত হয়।

রুট তার বক্তব্যে বলেন, ইউক্রেনকে একটি শক্তিশালী আলোচনার অবস্থানে রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলো অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহেও ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিমান প্রতিরক্ষা নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদও ইউক্রেনকে সরবরাহ করবে, যা আগের তুলনায় সহায়তার মাত্রা আরও বাড়াবে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে রুট বলেন, “আলোচনা চলছে। প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের অস্ত্র নিয়েই পরিকল্পনা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়টিতে আমরা গভীরভাবে আলোচনা করিনি। এখন এটি ইউরোপীয় মিত্রবাহিনীর শীর্ষ পর্যায় এবং পেন্টাগনের মাধ্যমে সমন্বয় করে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে ন্যাটো মূলত রাশিয়ার কৌশলগত মিত্র এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করা দেশগুলোকে একপ্রকার চাপ প্রয়োগ করছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশগুলোর রুশপ্রীতি দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিমাদের স্বার্থের পরিপন্থী—এমন আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের বার্তা দিচ্ছে জোট।

এখন নজর থাকবে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও অবস্থান বদলের ওপর, কারণ ন্যাটোর এই হুঁশিয়ারি কেবল প্রতীকী বার্তা নয়—এর বাস্তব পরিণতিও হতে পারে বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত