ঐতিহাসিক লঙ্কা জয় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, উৎসর্গ করলেন লিটন দাস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৬১ বার
ঐতিহাসিক লঙ্কা জয় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, উৎসর্গ করলেন লিটন দাস

প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শ্রীলঙ্কার মাটিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো কোনোম্যাচ ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো টাইগাররা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক লঙ্কানদের ৮ উইকেটে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। এই স্মরণীয় জয়ের মুহূর্তে টাইগারদের অধিনায়ক লিটন দাস দেশের জন্য লড়াই করা শহীদদের স্মরণ করতে ভোলেননি। সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, এই বিজয় তিনি উৎসর্গ করছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি।

লিটন বলেন, “যেহেতু এটি জুলাই মাস, তাই এই জয় আমরা উৎসর্গ করছি শহীদদের উদ্দেশে। দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত।” মাঠে যখন ভক্ত-সমর্থকদের উল্লাস আর পতাকার ঢেউ, ঠিক তখনই এই ধরনের বার্তা গোটা জাতিকে নাড়া দেয়। ক্রিকেট মাঠের এই প্রতীকী নিবেদন যেন হয়ে ওঠে জাতির প্রতি এক নীরব শপথ।

প্রতিযোগিতার শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না বাংলাদেশের জন্য। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ সমতায় আনে দলটি, আর ফাইনাল ম্যাচে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে পুরো সিরিজ নিজেদের করে নেয়।

শ্রীলঙ্কার মাঠে প্রথমবারের মতো যেকোনো সিরিজ জয়, তাও আবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এ জয়ের ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের তেতো স্বাদ পেল শ্রীলঙ্কা।

অধিনায়ক লিটন দাস জয়ের পর বলেন, “দেশের বাইরে যেকোনো জয়ই বিশেষ কিছু। আর প্রতিপক্ষ যখন শ্রীলঙ্কা, তখন তা আরও বড় গর্বের।” দলের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আত্মবিশ্বাসটা সবার ভেতরেই ছিল। পুরো দল হিসেবে আমরা বিশ্বাস করেছি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেললে জিততেই পারি। আর সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই আমরা সিরিজটা তুলে নিয়েছি।”

ব্যক্তিগত ফর্মেও ফিরে এসেছেন লিটন। দীর্ঘদিন ফর্মহীনতায় ভোগার পর এই সিরিজেই দেখা গেছে পরিচিত ব্যাটিং রূপ। শেষ ১৩ ইনিংসে ফিফটির দেখা না পেলেও, এবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই ধারাবাহিকতা তাঁকে এনে দিয়েছে সিরিজ সেরার পুরস্কার।

তিনি বলেন, “আমি সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করি, সেটা হোক প্র্যাকটিসে কিংবা মাঠে। যদিও মাঝে রান পাচ্ছিলাম না, কিন্তু নিজের উপর বিশ্বাস ছিল। সুযোগ পেলে কাজে লাগাবো—এই মনোভাব ছিল সবসময়।”

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই জয় শুধু মাঠের সাফল্য নয়, এটি একটি জাতির মনস্তাত্ত্বিক বিজয়ও। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের উদ্দেশে এমন শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং দেশের বাইরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো—সব মিলিয়ে এই জয় যেন একটি নবতর ইতিহাসের সূচনা। লঙ্কার মাটিতে টাইগারদের গর্জন তাই শুধু প্রতিপক্ষ নয়, গোটা বিশ্বকেই নতুন করে জানিয়ে দিলো—বাংলাদেশ এখন সাহস, শৃঙ্খলা ও সম্ভাবনার এক অন্যরকম নাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com