প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খুলাইফি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত রাখার কোনো উপকার নেই। তিনি বলেন, কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘাত কমানো এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
আল জাজিরার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রতিমন্ত্রী আল-খুলাইফি বলেন, “ইরানের আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের উপর আক্রমণ কারও জন্যই সুবিধাজনক নয়। এটি শুধুমাত্র হতাহতের ঘটনা সৃষ্টি করছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং অঞ্চলের জ্বালানি-চালিত অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।” তিনি উল্লেখ করেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর বিস্তৃত হামলার বিষয়টি কাতারের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের।
তিনি আরও বলেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা এখন যা করছি। আমরা বিশ্বাস করি যে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা ছাড়া টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের আর কোনো পথ নেই।” আল-খুলাইফি এই পরিস্থিতিতে কাতারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং বলেন, দোহা রাষ্ট্রের উপর যে অযৌক্তিক ও জঘন্য আক্রমণ হয়েছে তা নিন্দনীয় এবং এতে সরাসরি কাতারের সার্বভৌমত্ব প্রভাবিত হচ্ছে।
কাতারের প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, দোহা এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অনুশীলন অব্যাহত রাখবে এবং সম্ভাব্য সকল আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল, বিশেষত হরমুজ প্রণালী, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাতের কারণে এটি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই একটি বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন।”
আল-খুলাইফি মন্তব্য করেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক দেশগুলোকে নয়, বরং বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংলাপ স্থাপন করলে এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, “যে কোনো ধরনের সহিংসতা এবং বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলা কেবল মানবিক সংকট বাড়ায়। তাই আঞ্চলিক দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত না করে সমঝোতা ও কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করা আবশ্যক।” আল-খুলাইফি আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহকে অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এই অবস্থায় কাতারের আহ্বান, শুধু আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কাতার সরকারের বার্তা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা কোনো সমাধান এনে দেবে না, বরং সংলাপ ও মধ্যস্থতা ছাড়া উত্তেজনা কমানো সম্ভব নয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছে। আল-খুলাইফি জানিয়েছেন, দেশটি আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক নীতিমালা মেনে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলছেন, “আমরা চাই ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের মাধ্যমে তাদের বৈপরীত্য মীমাংসা করুক, যাতে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং বেসামরিক জনগণ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাতারের এই পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উদাহরণ স্থাপন করছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানই দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা আনতে পারে।