প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে রুপার দাম টানা দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মোট ৩৫০ টাকা। বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১১ মার্চ) সকালে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামের অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়াবে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।
এর আগে গত ১০ মার্চ বাজুস একই ধরনের সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি করে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এইভাবে দুই দফায় রুপার দাম মোট ৩৫০ টাকা বেড়ে নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে এ পর্যন্ত রুপার দাম ২৫ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬ দফায় এবং কমানো হয়েছে ৯ দফায়। তুলনায় ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র ৩ বার কমানো হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের সরবরাহের ওঠানামার কারণে এই সমন্বয় নিয়মিত হয়ে থাকে।
বাজুসের সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা হয়েছে। চলতি বছর স্বর্ণের দাম ৪০ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ২৬ দফা বৃদ্ধি এবং ১৪ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
বাজুসের এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রুপা ও স্বর্ণের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। বাজার পর্যবেক্ষকরা জানান, দুই দফার এই সমন্বয় স্থানীয় ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য রূপার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামে ওঠানামা, প্রবাসী আয় ও ব্যবসায়িক লেনদেনের কারণে দেশে রূপা ও স্বর্ণের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা প্রয়োজন। টানা দুই দফার মূল্য বৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে, তবে বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এই ধরনের সমন্বয় প্রয়োজনীয়।
এছাড়া, বাজুসের নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করে যে স্থানীয় বাজারে রুপা ও স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এই ধরনের সমন্বয় বাজারের আস্থা বাড়াতে সহায়ক, বিশেষ করে প্রাক-ঈদ ও উৎসবকালীন সময়ে, যখন ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকে।
এভাবে টানা দুই দফার সমন্বয়ের মাধ্যমে রুপার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাজুসের এই পদক্ষেপে রুপা এবং স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে।