মালদ্বীপে গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচ প্রবাসী নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার
মালদ্বীপে গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচ প্রবাসী নিহত

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালদ্বীপের ধীগুরা আইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন কোম্পানির লেবার কোয়ার্টারে শুক্রবার ভোরে ঘটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ নিশ্চিত করেছেন, নিহতরা হলেন তাজ উদ্দিন ইসলাম, মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার। গুরুতর আহত দুই বাংলাদেশি হলেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় একজনকে আইসিইউতে এবং অপরজনকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, শুক্রবার ভোরে প্রবাসীরা সেহরি খেতে রান্না শুরু করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। লেবার কোয়ার্টারে থাকা ৩৮ জন শ্রমিকের মধ্যে সাতজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়। বাকিরা অন্য রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে সরাসরি আহত হননি। স্থানীয় নাগরিক এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হন। আহত দুইজনকে রাজধানী মালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মালদ্বীপের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণে লেবার কোয়ার্টারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডারের ত্রুটি বা ভুল ব্যবহার এই মর্মান্তিক ঘটনায় অবদান রাখতে পারে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ জানা যাবে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ বলেন, “পাঁচজন প্রবাসী ভাইকে হারিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত। আহত দুইজনের অবস্থা এখনও গুরুতর। আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য সকল সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”

এই দুর্ঘটনা মালদ্বীপে বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ঝুঁকির বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় কমিউনিটি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বিশেষজ্ঞদের মতে অপরিহার্য। শ্রমিকদের আবাসিক এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং জরুরি অবস্থা মোকাবেলার পরিকল্পনা থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এ দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে মালদ্বীপের প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। দুর্ঘটনায় নিহতরা ছিলেন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত শ্রমিক। তাদের অকাল মৃত্যুর খবর প্রবাসী সম্প্রদায়ে ব্যাপক দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সহকর্মী এবং কমিউনিটি নেতারা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি করছে। শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ জানিয়েছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপদ আবাসিক ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সচেতনতা প্রচার ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ চালানো হবে।

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জীবনরক্ষার গুরুত্ব এখন আরও প্রকটভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে প্রবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অবহেলার ফলে যে মানবিক ক্ষতি ঘটে, তা শুধুমাত্র প্রবাসী শ্রমিকদের নয়, তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়ের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত