সাফে সাগরিকার লাল কার্ড : অপরাধের চেয়ে বড় শাস্তিতে বিতর্ক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার
সাফে সাগরিকার লাল কার্ড : অপরাধের চেয়ে বড় শাস্তিতে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চলমান নারী সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাংলাদেশ নারী দলের ফরোয়ার্ড সাগরিকা হঠাৎই মাঠের বাইরে। টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচেই গোলের ফুলঝুরি ছড়ানো এই উদীয়মান স্ট্রাইকার এক বিতর্কিত ঘটনার জেরে শুধু লাল কার্ডই দেখেননি, পেয়েছেন তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও মোটা অঙ্কের জরিমানাও। যা অনেকের চোখে অপরাধের চেয়ে বড় শাস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের হয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে একটি গোল করে মাঠে নিজের আধিপত্য প্রমাণ করেন সাগরিকা। তবে ওই ম্যাচেই দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে বল দখলের প্রতিযোগিতায় নেপালের ডিফেন্ডার সিমরান রায়ের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি। খেলোয়াড়দের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এক পর্যায়ে সিমরান সাগরিকার চুল টেনে ধরেন, আর তখনই মাঠে ঘটে হাতাহাতির দৃশ্য। সেই মুহূর্তে রেফারি দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখান।

তবে বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে শাস্তির মাত্রা। সাধারণত একটি সরাসরি লাল কার্ডে এক থেকে দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয় না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) সাগরিকা ও সিমরান দু’জনকেই তিন ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করেছে, পাশাপাশি দিয়েছে ৫০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা) করে জরিমানা। ঢাকাস্থ সাফের মিডিয়া ম্যানেজার আয়ুশ খাদকা নিশ্চিত করেছেন এই তথ্য।

খেলার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনাটি নিছক বল দখলের লড়াই থেকে শুরু হলেও পরিণত হয় অপ্রীতিকর শারীরিক সংঘর্ষে। বাংলাদেশ দলের মিডফিল্ডার বন্না খাতুনের পাস থেকে দ্রুত গতিতে আক্রমণ শানাতে গিয়ে সাগরিকা নেপাল ডিফেন্ডার সিমরানের বাধার মুখে পড়েন। পেছন থেকে ট্যাকেল করার পর সিমরানের আচরণ ছিল স্বাভাবিক ফুটবলীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত। তার চুল টানার মতো কার্যকলাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। খেলোয়াড়েরা ছুটে এসে থামানোর চেষ্টা করলেও ঘটনার মাত্রা তখনই রেফারির হস্তক্ষেপ ডেকে আনে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে সাগরিকা টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠে নামতে পারবেন না, তবে সব কিছু ঠিক থাকলে শেষ ম্যাচে আবারও বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি হলে ফিরতে পারবেন তিনি। ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল ফেডারেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা মনে করেন সাফের শাস্তি কিছুটা অতিরঞ্জিত। যেখানে অধিকাংশ ফুটবল টুর্নামেন্টে এমন লাল কার্ডের ঘটনায় শাস্তির মাত্রা সীমিত থাকে, সেখানে আর্থিক জরিমানা আর তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা অপ্রত্যাশিতভাবে কঠোর। এ বিষয়ে ফেডারেশন পক্ষ থেকে সাফের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই ঘটনায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। তরুণ একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের ক্ষেত্রেও এমন কঠোর সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতার আবহে কুপ্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। সাগরিকার এই শাস্তি কেবল মাঠেই নয়, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগেও তীব্র প্রভাব ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, সাফ কতটা যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে পারে এবং আদৌ কোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয় কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত