অভিনয়ই যার ধ্যান-জ্ঞান: ৭০-এ পা দিলেন গুণী অভিনেত্রী ডলি জহুর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন | প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫

সারাজীবন অভিনয়কে ভালোবেসে যিনি কাটিয়ে দিলেন, আজ তিনি ৭০ বছরে পা দিলেন। তিনি বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রের মমতাময়ী মা—ডলি জহুর। মঞ্চ, টেলিভিশন কিংবা সিনেমা—যেখানেই তার উপস্থিতি, সেখানেই যেন এক উষ্ণ আত্মিক ছোঁয়া। নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পে তার অবদান সময়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে বহু আগেই।

১৯৫৫ সালের ১৭ জুলাই জন্মগ্রহণকারী ডলি জহুর বাংলাদেশের অভিনয় অঙ্গনে এক অনন্য নাম। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে মুগ্ধ করে গেছেন দর্শকসমাজকে। অভিনয়জীবনে তিনি যেমন ছিলেন দক্ষ চরিত্রাভিনেত্রী, তেমনি এক আত্মবিশ্বাসী ও নিরহঙ্কার শিল্পী হিসেবেও অনুপ্রেরণার নাম। তার কণ্ঠে এখনো ঝরে পড়ে সেই একই ভালবাসার কথা—”অভিনয় ছাড়া তো জীবনে আর কিছু পারি না।”

বর্তমানে বয়সের ভারে কাজের পরিমাণ কমে এলেও অভিনয়ের প্রতি তার নিষ্ঠা ও ভালবাসা এতটুকু কমেনি। শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ না থাকলেও তিনি এখনো সুযোগ পেলেই অভিনয় করেন। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত একটি ধারাবাহিক নাটকে এবং মহিন খানের নির্দেশনায় একটি খণ্ড নাটকে সম্প্রতি কাজ করেছেন তিনি। নাটক দুটি বিটিভিতে প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। খণ্ড নাটকে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর ও হিমি।

এই বিশেষ দিনে অনন্যা রুমার প্রযোজনায় ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে, চ্যানেল আই-তে। তবে জন্মদিনে তার ঘরোয়া কোনো আয়োজন নেই। রাজধানীর উত্তরায় তিনি একাই বসবাস করেন। একমাত্র ছেলে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।

জন্মদিন উপলক্ষে ডলি জহুর বলেন, “জীবনে কোনো কাজকে ছোট করে দেখিনি। পেশাগত দায়িত্বে আমি শুধু চরিত্রটাকে ঠিকঠাকভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কখনো টাকার কথা ভাবিনি। শুধু কাজটাই ভালো করতে চেয়েছি। দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

অভিনয় জীবনে তিনি অর্জন করেছেন অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার। ২০২১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান ডলি জহুর। এছাড়াও ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

শুধু পর্দার মধ্যেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও তার শিল্পীসত্তা বিকশিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনাকালীন তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় অভিনয়ের যাত্রা।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘নতুন বউ’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘আগুনের পরশমনি’, ‘কুলি’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘বিচার হবে’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘অনন্ত ভালোবাসা’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘সন্তান আমার অহংকার’, ‘মন বসেনা পড়ার টেবিলে’ ইত্যাদি।

এই সবকিছুই প্রমাণ করে, অভিনয়ের বাইরেও ডলি জহুর এক জীবন্ত সংস্কৃতি। তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, বরং একজন মায়ের মতোই দেশের কোটি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।

৭০ বছরে পা রেখেও যিনি বলেন—”আমি আজীবন অভিনয় করে যেতে চাই”, তিনি নিঃসন্দেহে প্রকৃত অর্থেই একজন শিল্পী। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে তার অবদান চিরন্তন, অনন্য ও অনুকরণীয়। জন্মদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত