তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নেই বললেই চলে, স্বস্তিতে শহুরে জনজীবন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৫ বার

 

প্রকাশ: ১৮ জুলাই । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করছে তীব্র গরম। সূর্য যেন নিঃসীম আগুনের শিখা ছড়িয়ে দিচ্ছে, বাতাসে নেই একটুকরো প্রশান্তি। দিনের তাপমাত্রা নিয়মিতই ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে, সঙ্গে আর্দ্রতার কারণে গরমের তীব্রতা যেন আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এমন চরম গরমের মধ্যে একসময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং ছিল নগরবাসীর অন্যতম বড় দুর্ভোগ। তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যে উন্নতি হয়েছে, তা যেন প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে একটুকরো স্বস্তি এনে দিয়েছে জনজীবনে। সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ, নাগরিক প্রতিক্রিয়া এবং বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে—এ বছর তাপপ্রবাহের মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক এলাকাতেই দিনে-রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটছে না বললেই চলে। কোথাও কোথাও মাঝেমধ্যে কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ গেলেও তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে না।

ঢাকার একটি ব্যস্ত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শারমিন আফরোজ বলেন, “গত বছর এই সময়টায় দিনে অন্তত তিন-চারবার বিদ্যুৎ যেত। এবার অনেকটাই স্থিতিশীল। মাঝে মাঝে কয়েক মিনিটের জন্য গেলেও সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে। তীব্র গরমে এটুকু স্বস্তি তো বড় আশীর্বাদ।”

চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং সিলেটের কিছু এলাকাতেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর দাবি, গ্রিডের চাপ কিছুটা কমানো, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রাতের ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ বৃদ্ধির ফলে এই সামগ্রিক উন্নতি ঘটেছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে। গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, কিন্তু তারপরও আমরা বেশিরভাগ জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি।”

যদিও কিছু উপশহর বা গ্রামীণ এলাকায় এখনও মাঝে মধ্যে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবে তা আগের তুলনায় অনেক কম এবং নিয়ন্ত্রিত সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের জন্য এই ইতিবাচক চিত্র ধরে রাখতে হলে পুনঃনবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নির্ভরতা কমাতে হবে আমদানি-নির্ভর জ্বালানি উৎসের ওপর।

একইসঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে—অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা, ইনভার্টার বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ইত্যাদির ফলে চাপ কমছে সার্বিক ব্যবস্থার ওপর।

অবশেষে বলা যায়, রোদের দহন আর গরম বাতাসের মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন রাতের আতঙ্ক থেকে আপাতত মুক্তি মিলেছে শহরবাসীর। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার এ অগ্রগতি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক—যা তীব্র গরমের সঙ্গে লড়াইয়ে এক বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত