প্রকাশ: ২১ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে দুটি লা লিগা ও স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে ইউরো জয়—এই টিনএজ বিস্ময়কে ফুটবলবিশ্ব এখনই ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে মূল্যায়ন করছে। ক্লাবও তার ওপর আস্থা রেখে তাকে দিয়েছে বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি, যা একসময় পরতেন স্বয়ং লিওনেল মেসি।
নতুন মৌসুম শুরুর আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম সিটিজিএন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বপ্নের একাদশের নাম প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। এই একাদশ শুধু ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিকো মহাযুদ্ধের প্রতিচ্ছবিও বলা যায়। কারণ তার নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে পাঁচজন বার্সেলোনার কিংবদন্তি, পাঁচজন রিয়াল মাদ্রিদের এবং একমাত্র ব্যতিক্রম রোনাল্ডো, যিনি খেলেছেন দুই জায়ান্ট ক্লাবেই।
গোলবারে জায়গা পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ইকার ক্যাসিয়াস। তার হাতে যেমন ছিল অনন্য রিফ্লেক্স, তেমনি নেতৃত্বগুণেও ছিলেন অতুলনীয়। ক্যাসিয়াসকে রক্ষা করতে ইয়ামাল বেছে নিয়েছেন চারজন ডিফেন্ডার—রিয়ালের সের্হিও রামোস ও মার্কেলো এবং বার্সার জেরার্ড পিকে ও দানি আলভেস। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা একত্রিত করতে এমন সমন্বয় নিঃসন্দেহে কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।
মধ্যমাঠে ইয়ামালের পছন্দ কিছুটা চমকপ্রদ। সেখানে জায়গা হয়নি বার্সার দুই কিংবদন্তি—জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার। বরং রয়েছেন রিয়ালের ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান, বার্সার ব্রাজিলীয় জাদুকর রোনালদিনহো এবং নেইমার। তাদের সৃষ্টিশীলতা ও বল কন্ট্রোল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বহুবার ভক্তদের মুগ্ধ করেছে।
আক্রমণভাগে রাখা হয়েছে তিন কিংবদন্তিকে—বার্সার সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি, রিয়ালের রেকর্ডধারী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং দু’দলের হয়েই খেলা ব্রাজিলীয় মহাতারকা রোনাল্ডো নাজারিও। এই ত্রয়ীর নাম একসাথে উচ্চারিত হলে গোলের জোয়ার স্বাভাবিক ঘটনা।
স্বপ্নের এই একাদশে কারা থাকবেন, তা নিয়ে ভক্তদের মাঝে কৌতূহলের কমতি ছিল না। তবে ইয়ামালের পছন্দ নিঃসন্দেহে একটি বার্তা বহন করে—যে ফুটবল কেবল পরিসংখ্যান বা জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, বরং এটি এক ধরনের আবেগ, শিল্প ও ঐতিহ্যের সমন্বিত রূপ।
এমন একাদশে নাম থাকা মানে শুধু ক্রীড়ানৈপুণ্য নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবলকে প্রভাবিত করার ইতিহাসও। লামিনে ইয়ামালের এই স্বপ্নের একাদশ ফুটবলপ্রেমীদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, কেন ‘গেম অব গোলস’ আজও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটি।