পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৮ বার
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে আবারও প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে ধবলগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পানিয়ারটারী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় জনগণ উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ৮ এপ্রিল ভোর রাতে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিএসএফের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। প্রথম গুলির শব্দ রাত ২টা ৫০ মিনিটে এবং পরে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে শোনা যায়।

পরে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে প্রবেশ করে তারকাঁটা বেড়া কাটার চেষ্টা করলে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এই সময় আলী হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বিএসএফ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভারতের একটি হাসপাতালে নেন, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলী হোসেন ছিলেন আব্দুল গফুরের পুত্র।

স্থানীয়রা জানান, আলী হোসেন পেশায় একজন কৃষক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী ও সন্তানের আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালানোর প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজিবি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ। প্রায়ই গুলির ঘটনা এবং প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, যা সীমান্তবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক নিহত কৃষকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, লাশ বর্তমানে ভারতে রয়েছে এবং বৈঠকের মাধ্যমে তা ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

এই ধরনের সীমান্ত ঘটনা কেবল সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করে না, বরং দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করে। স্থানীয়রা মনে করেন, সীমান্তে এই ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে আরও দৃঢ় সমন্বয় এবং মানবিক প্রটোকল থাকা উচিত। মৃত্যুর ঘটনা প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমস্যা ও সীমান্তরক্ষীদের দায়িত্ব পালনকে নিয়েও প্রশ্ন তুলে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি নয়, বরং স্থানীয় জনগণের জন্য সচেতনতা, প্রটোকল এবং সুনির্দিষ্ট তদারকি থাকা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত